ঢাকা | বঙ্গাব্দ

দুমকিতে পায়রা নদীর তীব্র ভাঙন: নিঃস্ব হয়ে গ্রাম ছাড়ছেন বাসিন্দারা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 12, 2026 ইং
দুমকিতে পায়রা নদীর তীব্র ভাঙন: নিঃস্ব হয়ে গ্রাম ছাড়ছেন বাসিন্দারা ছবির ক্যাপশন: দৈনিক চেতনার কন্ঠ
ad728
সাকিব হোসেন পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি :-

পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামটি। গত কয়েকদিনের ভাঙনে নতুন করে বিশটি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে রাস্তার উপরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ইতোমধ্যে দেড়শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। অনেকেই এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন অন্যত্র। যাদের সম্বল নেই তাঁরা বারবার ঘর বাঁধেন নদীর পাশেই। কোন কোন পরিবার ৮- ১০ বার নতুন করে ঘর বাঁধেন। সব ভিটেমাটি শেষ হওয়ায় অনেকেই শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন সরকারি রাস্তার উপর। ঝুকির মধ্যে রয়েছে ৩২ নম্বর আংগারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টার, সিকদার বাড়ি জামে মসজিদ ও মোল্লা বাড়ি।ভাঙন অব্যাহত থাকলে অচিরেই বিলীন হবে দুটি বাড়ি সহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি।সরেজমিন পরিদর্শনকালে কথা হয় নিটুলী রানীর সাথে। নিটুলী রানীর ভাষ্য,এ পর্যন্ত তিনি সাতবার ভিটেমাটি হারিয়েছেন। শেষ আশ্রয়টুকু নদীগর্ভে চলে গেলে তিনি সরকারি রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছেন। তার আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।
আক্ষেপ করে জাকির খান(৫০) বলেন, ‘ কত মানুষ আইলো কত কতা কইলাম, কামের কিছুই হইলো না। আমনেগো লগে কতা কইয়া হইবো কি? কেউতো আমাগো দিকে চাইলো না।’
রিপন মাল (৩৭) জানান, বাপদাদাদের আমল থেকে এ গ্রামটি ভাঙছে। এ বয়সে তিনি পাঁচ ছয়বার বসত ঘর পাল্টিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত বাজারে গিয়ে বাসা ভাড়া করে থাকছেন। আংগারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন সিকদার বলেন, এ পর্যন্ত আমাদের সাড়ে তিনশ একর জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। ১৯৭৭-৭৮ সালে নদীর অপরপ্রান্তে বাকেরগঞ্জের সাথে নতুন চরে ৬০ টি পরিবারের জন্য ৯০ একর জমি বরাদ্দ দেয়া হলেও বাকেরগঞ্জের লোক জবরদখল করে রাখায় আমাদের কোন পরিবার জমি পায়নি।
ভুক্তভোগী বাদল চৌকিদার জানান, বারবার নদী ভাঙনে তাদের সহায়সম্বল কিছুই নেই।বাধ্য হয়ে রাস্তার উপর বসবাস করতে হচ্ছে। তিনি প্রশাসনের কাছে তাদের পূনর্বাসনের দাবি জানান।
আংগারিয়া ৩ নম্বর ইউপি সদস্য শাহীন গাজী বলেন, পায়রার অব্যাহত ভাঙনে তাঁর ওয়ার্ডটি বিলুপ্তির পথে। তিনি ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
আংগারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বাহেরচর গ্রামটি অস্তিত্ব রক্ষা এবং ভুক্তভোগীদের সাহায্যের জন্য প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান।
দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপজেলা পরিষদ থেকে ত্রানসহায়তা প্রদান করা হবে। ভাঙনরোধে পানিউন্নয়ন বোর্ডের সাথে আলোচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।



নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চেতনার কন্ঠ

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বিয়াঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্রীড়া-সংস্কৃতি আয়োজনে তারুণ্যের উচ্ছ

বিয়াঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্রীড়া-সংস্কৃতি আয়োজনে তারুণ্যের উচ্ছ