সোহেল রানা,
স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহীতে যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে রাজশাহী জেলা প্রশাসন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
একুশের প্রথম প্রহরে নগরীর সোনাদিঘির পাড়ে এক একর জমির ওপর নির্মিত নতুন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা করা হয়। সেখানে ফুল দিয়ে শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।
সেই কর্মসূচিতে যোগদান করে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন(WHRO) রাজশাহী জেলা কমিটি। তারাও রাত ১২টা ১ মিনিটে সংগঠনের সভাপতি আয়েশা আক্তার লিজার নেতৃত্বে মহান ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। এই সময় সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন(WHRO) এর সভাপতি আয়েশা আক্তার লিজা বলেন, এদিন আমাদের প্রেরণার। এই প্রেরণা থেকেই আমাদের স্বাধীনতার পথচলা। যখন পশ্চিমারা আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, তখন ছাত্ররা আত্মত্যাগের মাধ্যমে মায়ের ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ইতিহাসে এমন দৃষ্টান্ত বিরল।
সাধারণ সম্পাদক মোসা. ফাতেমা আক্তার বলেন, আমরাই একমাত্র জাতি, যারা মাতৃভাষার জন্য লড়াই করে জীবন দিয়েছি।ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শুধু বইয়ে পড়ার বিষয় নয়, এটা আমাদের আত্মপরিচয়ের অংশ। প্রতি বছর এখানে এসে শ্রদ্ধা জানালে সেই ইতিহাসকে নতুন করে অনুভব করি।
এর আগে তিনি শহীদ মিনার চত্বরে একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশীদ ও জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রাতেই নবনির্মিত এই শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানুষের ঢল নামে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
অনেকেই খালি পায়ে শহীদ মিনারে গিয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতিকে স্মরণ করেন। পুরো প্রাঙ্গণ জুড়ে ছিল শোক, গর্ব ও আত্মমর্যাদার এক অনন্য আবহ।
দৈনিক চেতনার কন্ঠ