মতামত: জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল
প্রবাসীরা বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সমৃদ্ধ করতে লাখো বাংলাদেশি বছরের পর বছর বিদেশের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করছেন।
তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্সে চলে অসংখ্য পরিবার, গড়ে ওঠে ঘরবাড়ি, সন্তানের পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন। অথচ সেই প্রবাসী যখন দীর্ঘদিন পর প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসেন, তখন বিমানবন্দরে যদি তাঁকে অপমান, দুর্ব্যবহার, হয়রানি কিংবা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়—তাহলে সেটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয়।
একজন প্রবাসীকে লাথি মারা মানে শুধু একজন মানুষকে অপমান করা নয়—এটি দেড় কোটি প্রবাসীর আত্মমর্যাদার প্রশ্ন।
বিমানবন্দর দেশের প্রবেশদ্বার। বিদেশ থেকে একজন বাংলাদেশি যখন দেশে ফেরেন, তাঁর সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের প্রথম আচরণই হওয়া উচিত সম্মানজনক, মানবিক ও দায়িত্বশীল। কোনো অভিযোগ থাকলে তার আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সমাধানের পথ রয়েছে। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কিংবা কোনো যাত্রীকে শারীরিকভাবে অপমান করার অভিযোগ কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।
অভিযোগের সত্যতা অবশ্যই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। কেউ দোষী হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে; আবার অভিযোগ অসত্য হলে সেটিও পরিষ্কারভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।
প্রবাসীরা দেশের সম্পদ। তাঁদের সঙ্গে ভালো আচরণ করা কোনো বিশেষ অনুগ্রহ নয়—এটি তাঁদের ন্যায্য মর্যাদা।
আমরা চাই, দেশের প্রতিটি বিমানবন্দরে প্রবাসী যাত্রীদের জন্য আরও মানবিক ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হোক। হয়রানি, দুর্ব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ থাকলে দ্রুত তদন্তের ব্যবস্থা করা হোক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হোক।
প্রবাসীর ঘামের মূল্য দিতে হবে। তাঁদের সম্মান রক্ষা করতে হবে।
কারণ প্রবাসীরা শুধু বৈদেশিক মুদ্রা পাঠান না—তাঁরা বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা ও পরিচয় বহন করেন। তাই তাঁদের মর্যাদা রক্ষা করা মানে বাংলাদেশের মর্যাদা রক্ষা করা।
দৈনিক চেতনার কন্ঠ