গৌরাঙ্গ বিশ্বাস, বিশেষ প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন কেন্দ্র কালিহাতী বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি ও অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছেন এম তৌফিক আজম, অফিসার ইনচার্জ, কালিহাতী থানা। তাঁর সরাসরি তদারকিতে ২৪ শে ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে ওসি নিজে উপস্থিত থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সিএনজি চালক, পরিবহন শ্রমিক, সাধারণ যাত্রী ও দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান—বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দখলবাজি কিংবা হয়রানি বরদাশত করা হবে না।
ওসি তৌফিক আজম বলেন,
চাঁদাবাজি একটি সামাজিক ব্যাধি। কেউ যদি এ ধরনের অপচেষ্টায় জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষকে নিরাপদ পরিবেশ দেওয়া আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
এ সময় তিনি নিজের মোবাইল নম্বর সংবলিত কার্ড বিতরণ করেন, যাতে ভুক্তভোগীরা সরাসরি যোগাযোগ করে অভিযোগ জানাতে পারেন। পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধারণ মানুষ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন-এর সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক শাহ আলম বলেন,
চাঁদাবাজি দমনে পুলিশের এই দৃঢ় অবস্থান প্রশংসনীয়। জনস্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এমন পদক্ষেপ অব্যাহত থাকা প্রয়োজন।
কালিহাতী প্রেসক্লাব-এর নেতা ডাঃ গৌরাঙ্গ বিশ্বাস ও সাবেক সভাপতি তারেক আহমেদ বলেন,
“বাসস্ট্যান্ডে দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজির অভিযোগ ছিল। ওসি তৌফিক আজমের সরাসরি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন শুরু হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক।”
একই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মিল্টন জানান,
“আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক। এতে ভুক্তভোগীরা সাহস পাবে।”
পুলিশ সূত্র জানায়, বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নিয়মিত টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং চাঁদাবাজদের শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, পুলিশের উদ্যোগে তারা অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা—এই অভিযান ধারাবাহিকভাবে চললে কালিহাতী বাসস্ট্যান্ড স্থায়ীভাবে চাঁদাবাজ ও দখলমুক্ত থাকবে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে কালিহাতী বাসস্ট্যান্ডে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। ওসি তৌফিক আজমের জিরো টলারেন্স নীতি শুধু আইন প্রয়োগ নয়, বরং জনআস্থা পুনর্গঠনেরও একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গৌরাঙ্গ বিশ্বাস,
বিশেষ প্রতিনিধি
01712720787
দৈনিক চেতনার কন্ঠ