মোঃ ইসমাইল হোসেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় দুবাইপ্রবাসী এক ব্যক্তির সেমিপাকা বাথানবাড়ি ভাঙচুর করে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা এবং আসবাবপত্র লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে। শনিবার দিবাগত রাত ৪টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি থানায় গিয়েও মামলা করতে না পারার অভিযোগ তুলেছেন প্রবাসীর কেয়ারটেকার শরিফুল ইসলাম।
ভুক্তভোগী প্রবাসীর নাম আবু হেনা মোস্তফা জামান (রিপন মিয়া) তিনি নাচোল উপজেলার পশ্চিম মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার ভোররাত থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত একদল অস্ত্রধারী ব্যক্তি প্রবাসী জামানের বাথানবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় বাড়ির আসবাবপত্রও লুটপাট করা হয়। ঘটনার সময় প্রবাসী জামান ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ছিলেন না।
স্থানীয় কয়েকজন মুঠোফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের মারধরের হুমকি দিয়ে তেড়ে আসা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে সরে যান।
অভিযোগে আরোও বলা হয় হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর প্রবাসীর কেয়ারটেকার শরিফুল ইসলামসহ স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়িটির ধ্বংসস্তূপের ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। পরে মুঠোফোনে বিষয়টি প্রবাসী জামানকে জানানো হলে তিনি থানায় মামলা করার নির্দেশ দেন।
শরিফুল ইসলামের অভিযোগ, এ ঘটনায় মামলা করতে গত সোমবার তিনি নাচোল থানায় যান। তবে পুলিশ মামলা নেয়নি। অভিযোগকারীদের দাবি, পুলিশ কখনো লিখিত অভিযোগ দিতে বলে, আবার কখনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে বলেছে। পাশাপাশি আগে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
শরিফুল ইসলাম আরও জানান, মঙ্গলবার সকালে তিনি স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে আবারও থানায় যান। তবে তখনো তাদের এজাহার লেখা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়ির বাইরের একটি সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাদের অভিযোগ, বিবাদীদের কাছ থেকে ১১ বিঘা জমি প্রায় ১০বছর পূর্বে লিজ গ্রহণ করেন। লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় রোপনকৃত গাছ রেখে দেয়ার শর্তে ৬০ হাজার টাকা বাদিকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে । কিন্তু বিবাদীগণ সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে এ হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরো অভিযোগ করেন প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকার মালামাল লুটপাট ও ৫লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেছে বলে দাবি করেন।
অভিযুক্ত শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান আমাদের লিজকৃত জমি মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এক বছর তারা জোরপূর্বক ভোগদখল করেছে । স্থানীয় সালিশদারদের মাধ্যমে বাথানবাড়ি অপসরণের জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা শালীশদারের হাতে প্রদান করা করা হলেও তারা জোরপূর্বক ক্ষমতার অপব্যবহার করে বসবাস করে আসছিল।
নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ সুকমল চন্দ্র দেবনাথ দৈনিক চেতনার কন্ঠকে জানান অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মামলা না নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন আমি ছুটিতে ছিলাম এসেছি ভুক্তভোগী পরিবারেকে থানায় ডাকা হয়েছে তারা লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দৈনিক চেতনার কন্ঠ