মোঃ মিন্টু মিয়া
গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদক উদ্ধার অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। মাদক কারবারিদের সংঘবদ্ধ হামলায় ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে আটককৃত দুই আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। এই ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরের দিক সাংবাদিককে এসব কথা জানিয়েছেন শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন। এরআগে, বুধবার রাত ১১টার দিকে শ্রীপুরের মাওনা পিয়ার আলী কলেজের পেছনে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, সেখানে একটি বাড়িতে মাদক কেনাবেচার গোপন সংবাদে অভিযানে যায় শ্রীপুর থানা পুলিশ। অভিযান চলাকালীন ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন লাকী আক্তার (২৮), জাহাঙ্গীর হোসেন (২৬) ও মো. রাজীব (৩৩)। আসামিদের আটক করার সময় হঠাৎই স্থানীয় মাদক কারবারি ও তাদের সহযোগীরা সংঘবন্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র, রামদা এবং লোহার রড নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায় । তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এক পর্যায়ে অভিযানে ব্যবহৃত পুলিশের দুটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করে তারা। এই বিশৃঙ্খলার সুযোগে হামলাকারীরা পুলিশের কাছ থেকে জাহাঙ্গীর হোসেন ও রাজীবকে ছিনিয়ে নেয়। হামলায় এসআই অরূপ কুমার বিশ্বাস ও এসআই মুহাম্মদ মাসুদ রানাসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
এ ঘটনায় উপপরিদর্শক (এস.আই) অরুপ কুমার বাদী হয়ে শ্রীপুর মডেল থানায় ২৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৮০-৯০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া মাদক উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক একটি মামলা করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হামলাকারীদের ফেলে যাওয়া তিনটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে।
শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ সাংবাদিক কে জানান, "সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। ইতোমধ্যে পালিয়ে যাওয়া রাজীবসহ ১১জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল পুলিশ।"
দৈনিক চেতনার কন্ঠ