নাটোর প্রতিনিধি
নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল থেকে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নানা ধরনের সমালোচনা শুরু হয়। তবে ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরির দাবি করেছে গুরুদাসপুর বিএনপি।
এরআগে গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিলকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় এমপি আবদুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে সোমবার আটকের পর মঙ্গলবার বিকেলে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে আদালত তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এসব ঘটনায় এমপি ও তার পরিবারের লোকজন কোনঠাশা হয়ে পড়েন। ওই ঘটনার পরদিন আজ বুধবার সকালে এমপির একটি অশ্লীল ভিডিও সামনে আসে।
অশ্লীল ওই ভিডিওটি ভূয়া দাবি করে গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয় বুধবার বিকেলে। উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের নয়াবাজার এলাকায় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান।
বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের একটি অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত ব্যক্তিগতভাবে এমপির মান ক্ষুন্ন করতেই 'আশফাক আহমেদ' নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ওই ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে এক নারীর কন্ঠও শোনা গেছে। মনহানিকর ওই ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তারা ওই ভিডিওটি ছড়ানোর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
তিনি বলেন, একইসঙ্গে ভূয়া ওই ভিডিওটি যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন সেসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তারা।
এসময় সাংবাদিক সম্মেলনে উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ৯ মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায় - উলঙ্গ শরীর নিয়ে এমপি আব্দুল আজিজ এক নারীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলছেন। ওই কথোপকথনের মধ্যে যৌন মিলন সংক্রান্ত স্পর্শকাতর অনেক বাক্য রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এমপির ছেলে মিন্টুকে যুবদলের যুগ্ম সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় যুবদল। এরপর মঙ্গলবার রাত দশটার দিকে গুরুদাসপুরের শহীদ শামসুজ্জোহা কলেজ মাঠে শাকিলের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শাকিল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মিন্টুর পাশাপাশি আমেরিকা প্রবাসী রাসেলেরও সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে এমন সন্দেহে জানাজায় অংশ নেওয়া উৎসুক জনতা দোকানপাট ভাঙচুরের পর লুটপাট করেন। এই ঘটনাতে থানায় কোনো মামলা হয়নি।# মো.রাশিদুল ইসলাম
দৈনিক চেতনার কন্ঠ