ঢাকা | বঙ্গাব্দ

প্রিয় সন্তান রুফাইদ আল রাওনাফ—তোমার জন্য বাবার খোলা চিঠি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 3, 2026 ইং
প্রিয় সন্তান রুফাইদ আল রাওনাফ—তোমার জন্য বাবার খোলা চিঠি ছবির ক্যাপশন: দৈনিক চেতনার কন্ঠ
ad728
নিজস্ব প্রতিবেদক: মোঃ নিশাদ আহম্মেদ বিদ্যা

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার ২ নম্বর মুন্সিরহাট ইউনিয়নের কামাল্লা গ্রামে ঘটে যাওয়া একটি পারিবারিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্তানের উদ্দেশে বাবার লেখা আবেগঘন একটি খোলা চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো আবেগের সৃষ্টি করেছে।

চিঠিতে বাবা তাঁর সন্তান রুফাইদ আল রাওনাফকে উদ্দেশ করে লিখেছেন, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার সকাল ১০টার দিকে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁদের জীবনে নেমে আসে এক কঠিন বাস্তবতা। সৃষ্টি হয় গভীর শূন্যতার।

বাবার ভাষায়, যে মা প্রতিদিন রাতে সন্তানকে ঘুম পাড়াতেন, যার হাত ছাড়া সন্তান খেতে চাইত না—আজ সেই মা পাশে নেই। সন্তানের বয়স ও অবুঝতার কারণে হয়তো সে এখনো বুঝতে পারছে না, কেন তার জীবনে এমন পরিবর্তন এসেছে। ভবিষ্যতে যখন সে বড় হবে, তখন যেন নিজের প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে পায়—সেই ভাবনা থেকেই সন্তানের উদ্দেশে চিঠিটি লিখেছেন বাবা।

চিঠিতে বাবা লিখেছেন, জীবনের সব গল্প কবিতার মতো সুন্দর হয় না। কখনো সম্পর্কের ভেতরে ভুল বোঝাবুঝি, দূরত্ব কিংবা নানা বাস্তবতায় একটি স্বপ্নের সংসারও ভেঙে যেতে পারে। কিন্তু যত গভীরই আঘাত হোক, সময়ের সঙ্গে সেই ক্ষত নিয়ে আবারও সামনে এগিয়ে যেতে হয়।

সন্তানের উদ্দেশে বাবা স্পষ্ট করে লিখেছেন—এই বিচ্ছেদের জন্য সন্তানের কোনো দায় নেই। তার কোনো ভুল ছিল না। সন্তান তাঁদের দুজনের জীবনেই আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল এবং সেই সত্য কখনো বদলাবে না।

নিজের প্রসঙ্গে বাবা লিখেছেন, স্বামী হিসেবে তিনি ব্যর্থ বা অযোগ্য হয়ে থাকতে পারেন। তাঁর মনে অভিমান, কষ্ট কিংবা অভিযোগ থাকলেও তিনি চান না, সন্তানের মনে তার মায়ের প্রতি কোনো নেতিবাচক বা বিষাক্ত অনুভূতি তৈরি হোক। কারণ সম্পর্কের যে অবস্থাই হোক, সন্তানের কাছে মা সবসময়ই মা।

চিঠিতে আরও উঠে এসেছে একক বাবা হিসেবে সন্তানকে বড় করার সংগ্রামের কথা। বাবা লিখেছেন, মায়ের অভাব কখনো পুরোপুরি পূরণ করতে না পারলেও সন্তানের ভালোবাসায় কোনো কমতি রাখবেন না। বাবার পাশাপাশি মায়ের ভূমিকাটিও যতটা সম্ভব পালন করার চেষ্টা করবেন। সন্তানের হাসি, কান্না, স্বপ্ন ও প্রতিটি সাফল্যের সময়ে ছায়ার মতো পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও বাবার স্বপ্ন স্পষ্ট। তিনি চান, রুফাইদ আল রাওনাফ বড় হয়ে একজন সৎ, সংবেদনশীল, চরিত্রবান ও ভালো মানুষ হোক। জীবনের কঠিন সময় যেন তাকে ভেঙে না দিয়ে বরং আরও শক্ত ও মানবিক করে তোলে—এটাই বাবার প্রত্যাশা।

চিঠির সবচেয়ে আবেগঘন অংশে বাবা সন্তানের কাছে নিজের বার্ধক্যের কথা তুলে ধরে লিখেছেন—জীবনের শেষ সময়ে যেন সন্তান তাঁর হাত ধরে পাশে থাকে। সেই হাতের স্পর্শই যেন বাবার জন্য শেষ সময়ের সাহস হয়ে ওঠে।

সবশেষে সন্তানকে উদ্দেশ করে বাবা লিখেছেন, পৃথিবীর সবকিছুর চেয়ে তিনি তাঁর সন্তানকে বেশি ভালোবাসেন। জীবনের বিনিময়েও সন্তানকে বেছে নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি সন্তানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে নেক হায়াত ও সুন্দর ভবিষ্যতের দোয়া করেছেন।

বাবার এই চিঠিতে বিচ্ছেদের কষ্টের পাশাপাশি সন্তানের প্রতি গভীর মমতা, দায়িত্ববোধ এবং ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদ ফুটে উঠেছে। একটি শিশুর জীবনে পারিবারিক পরিবর্তনের প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে, সেই মানবিক দিকটিও চিঠিটির মাধ্যমে সামনে এসেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চেতনার কন্ঠ

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বিয়াঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্রীড়া-সংস্কৃতি আয়োজনে তারুণ্যের উচ্ছ

বিয়াঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্রীড়া-সংস্কৃতি আয়োজনে তারুণ্যের উচ্ছ