বাংলাদেশ সরকার এবং জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP)-এর যৌথ অর্থায়নে নাটোরের গুরুদাসপুরে শুরু হওয়া 'স্কুল ফিডিং' পাইলট প্রকল্পটি নিয়ে একসময় তৈরি হয়েছিল বিশাল উদ্দীপনা।
উপজেলার ৯০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১৭ হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থীর পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। লক্ষ্য ছিল ঝরে পড়া রোধ করা, স্কুলে উপস্থিতি বাড়ানো এবং পুষ্টিকর বিস্কুট বা খাবার সরবরাহের মাধ্যমে শিশুদের স্বাস্থ্যবিকাশ নিশ্চিত করা।
শুরুর দিকে এর প্রভাবও ছিল চোখে পড়ার মতো। গুরুদাসপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রিনা রাণী রায় এবং সাধারণ অভিভাবকেরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানিয়েছিলেন যে, এই কর্মসূচির ফলে স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি প্রায় শতভাগে পৌঁছেছিল।
ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য ভুলে সব শিশু যখন একসাথে বসে খাবার খেত, তখন তাদের মাঝে এক চমৎকার ভ্রাতৃত্ববোধ ও আনন্দের পরিবেশ গড়ে উঠেছিল। শত শত সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মুখে ফুটেছিল স্বস্তির হাসি।
কিন্তু এই সুন্দর এবং মানবিক পরিবেশের ওপর হঠাৎ কার কালো ছায়া?
যেখানে পুষ্টি পাওয়ার কথা ছিল, সেখানে কোমলমতি শিশুদের সামনে কী তুলে দেওয়া হচ্ছে? অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, কিছু অসাধু সিন্ডিকেট ও চক্রের লোভের বলি হতে চলেছে এই চমৎকার জাতীয় উদ্যোগটি।
পুষ্টিহীনতার ফাঁদ: শিশুদের জন্য বরাদ্দকৃত উন্নত মানের পুষ্টিকর খাবারের পরিবর্তে অত্যন্ত নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য সরবরাহের অভিযোগ উঠছে।
ভবিষ্যৎ ধ্বংসের চক্রান্ত: সরকারি ও আন্তর্জাতিক এই মহৎ তহবিলকে নিজেদের পকেটস্থ করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি চক্র, যা সরাসরি শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
আস্থার সংকট: যে উদ্যোগটি শিশুদের স্কুলমুখী করেছিল, অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণে এখন অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের স্বাস্থ্য নিয়ে চরম শঙ্কিত ও দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে পড়েছেন।
কারা এই চক্রের পেছনে? কীভাবে লাখ লাখ টাকার এই মহৎ প্রকল্পটিকে নিজেদের লুটপাটের হাতিয়ার বানিয়েছে তারা? প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে কীভাবে চলছে এই পুকুরচুরি?
দৈনিক চেতনার কন্ঠ