মোঃ নিজাম উদ্দীন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের নির্ধারিত দিনে এই আসনের একমাত্র নারী প্রার্থী কাজী রেহা কবির সিগমার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছে স্থানীয় জেলা নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রার্থী ও তার সমর্থকরা।
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রার্থীদের দাখিলকৃত নথি পরীক্ষা করেন। যাচাই শেষে জানানো হয়, কাজী রেহা কবির সিগমার দাখিলকৃত ১ শতাংশ সমর্থক ভোটারের তালিকায় অসংগতি রয়েছে।
নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটারের ১ শতাংশের স্বাক্ষর সম্বলিত তালিকা জমা দিতে হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী:
সিগমার দেওয়া তালিকার কিছু ভোটার ওই নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা নন।
ভোটার তালিকার তথ্যের সঙ্গে দাখিলকৃত তথ্যের গরমিল এবং কিছু ক্ষেত্রে তথ্যের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
এই আইনি ত্রুটির কারণেই তার মনোনয়নপত্রটি অবৈধ বা বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়।
প্রার্থীর অভিযোগ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
মনোনয়নপত্র বাতিলের পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কাজী রেহা কবির সিগমা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি প্রশাসনের কাছে পুরো প্রক্রিয়ার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। সিগমা অভিযোগ করে বলেন, "জনগণ আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চায়। আমার জোরালো জনসমর্থন দেখে একটি মহল শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। ১ শতাংশ ভোটারের তথ্যে ভুলের যে অজুহাত দেওয়া হচ্ছে, তা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "আমি মাঠ পর্যায়ের মানুষ। সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। আমার দাখিলকৃত নথিতে কোনো ইচ্ছাকৃত ভুল ছিল না। আমি এই অবিচারের বিচার চাই।"
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে সিগমা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি মাঠ ছাড়ছেন না। তিনি বলেন, "নির্বাচন কমিশনার কেন এবং কী উদ্দেশ্যে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন, তার যৌক্তিকতা নিয়ে আমি উচ্চ আদালতে যাব। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং বিশ্বাস করি হাইকোর্টে রিট করার মাধ্যমে আমি আমার প্রার্থিতা ফিরে পাব এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাব।"
হাওরবেষ্টিত ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম আসনটি কিশোরগঞ্জের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে কাজী রেহা কবির সিগমার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছিল। তার মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সমর্থকদের দাবি, নির্বাচনী লড়াইকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে সিগমার প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া জরুরি।
এখন দেখার বিষয়, উচ্চ আদালত থেকে সিগমা তার প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে নির্বাচনী মাঠে পুনরায় ফিরতে পারেন কি না।
দৈনিক চেতনার কন্ঠ