স্টাফ রিপোর্টার : নিজাম উদ্দীন
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং জনসেবায় সততা ও নিষ্ঠার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া। সখীপুর থানায় অভাবনীয় সাফল্যের পর কিশোরগঞ্জে যোগদানের অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা জয় করে নিয়েছেন।
মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে যেখানেই দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানেই মেধা ও সাহসিকতার স্বাক্ষর রেখেছেন। টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর থানায় দায়িত্ব পালনকালে মাদক নির্মূল, ওয়ারেন্ট তামিল এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে তিনি জেলা-এর ‘শ্রেষ্ঠ ওসি’ হিসেবে ভূষিত হন। এই সাফল্য ছিল তাঁর নিরলস পরিশ্রম ও পেশাদারিত্বের এক উজ্জ্বল প্রতিফলন।
গত - ২৬শে ডিসেম্বর শুক্রবার কিশোরগঞ্জ সদর দক্ষিণ রেলগেট জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে উপস্থিত মুসল্লিদের সামনে তিনি মাদকবিরোধী এক আবেগঘন ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন:
"মাদক কেবল একটি জীবন নয়, একটি পরিবার ও একটি সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। আমাদের সন্তানদের এই মরণনেশা থেকে বাঁচাতে হলে পুলিশের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। আপনারা নির্ভয়ে আমাদের তথ্য দিন, তথ্যদাতার পরিচয় কঠোরভাবে গোপন রাখা হবে। কিশোরগঞ্জের মাটি থেকে মাদকের মূল উপড়ে ফেলতে আমি বদ্ধপরিকর।"
তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন যে, যতদিন তিনি দায়িত্ব পালন করবেন, সাধারণ মানুষের জন্য থানার দরজা সব সময় খোলা থাকবে এবং হয়রানিমুক্ত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা হবে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় যোগদানের পর থেকেই তিনি পুরো শহরকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিতে টহল কার্যক্রম কয়েকগুণ বৃদ্ধি করেছেন। বিশেষ করে রাতের আঁধারে কিশোর গ্যাং, মাদক কারবারি এবং ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য কমাতে তাঁর পরিচালিত বিশেষ অভিযানগুলো জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
ওসি আবুল কালাম ভূঁইয়া শুধু মাঠ পর্যায়েই সক্রিয় নন, বরং প্রশাসনিকভাবেও দক্ষ। তিনি নিয়মিত তাঁর অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করে স্বচ্ছতা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করেন। "পুলিশ হবে জনগণের বন্ধু, শোষক নয়"—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে তিনি প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে জনবান্ধব আচরণ করার পরামর্শ দেন।
নিভৃতচারী এই পুলিশ কর্মকর্তা নিরবে-নিভৃতে মানুষের সেবা করে যেতে চান। তিনি আমাদের জানান, "পদ-পদবি চিরস্থায়ী নয়, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা ও দোয়া সারাজীবন সাথে থাকে। আমি যতদিন এই পোশাকে আছি, সততা ও নিষ্ঠার সাথে জনগণের সেবা করে যেতে চাই।"
কিশোরগঞ্জের সচেতন নাগরিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে হলে ওসি আবুল কালাম ভূঁইয়ার মতো সৎ ও সাহসী কর্মকর্তার কোনো বিকল্প নেই। তাঁর কাজ করার ধরণ, সাধারণ মানুষের সাথে মিশে যাওয়ার ক্ষমতা এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান দেওয়ার দক্ষতা তাঁকে সাধারণ কর্মকর্তাদের চেয়ে আলাদা করেছে।
আজ সাধারণ জনগণের মুখে একটাই কথা— "যদি বাংলাদেশের প্রতিটি থানায় একজন করে আবুল কালাম ভূঁইয়া থাকতেন, তবে অপরাধমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।"
দৈনিক চেতনার কন্ঠ