স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মহানগরীর শাহমখদুম থানা এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া দুই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে নিখোঁজের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কক্সবাজার থেকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি)। একই সময়ে মহানগরীর বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পৃথক অভিযানে অনলাইন জুয়াড়ি, মাদক কারবারি ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ মোট ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপপুলিশ কমিশনার (সদর) মো. গাজিউর রহমান।
পুলিশ জানায়, গত ১০ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে শাহমখদুম থানাধীন ডাঙ্গীপাড়া এলাকার আল-জামিয়া আস্-সালাফিয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে ছদ্মনাম রাফি (১৩) ও হাবিব (১২) নামের দুই শিশু শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়। বিষয়টি জানার পর তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে পরদিন ১১ আগস্ট শাহমখদুম থানায় পৃথক দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
জিডির পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের নির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধান শুরু করে শাহমখদুম থানা পুলিশ। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী কক্সবাজারে অবস্থান করছে। পরে পুলিশের একটি বিশেষ টিম কক্সবাজারে অভিযান চালিয়ে তাদের সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দুই শিক্ষার্থী জানায়, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত দেখার উদ্দেশ্যে তারা বাড়ি থেকে বের হয়ে সেখানে চলে গিয়েছিল। উদ্ধার শেষে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের নিজ নিজ অভিভাবকের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে একই সময়ে নগরীতে মাদক ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে পুলিশের অভিযানও অব্যাহত ছিল। বৃহস্পতিবার রাতভর মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে হেরোইন, ইয়াবা, ভারতীয় এসকাফ সিরাপ ও গাঁজাসহ ছয়জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মতিহার থানার বিনোদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার বোতল এসকাফ সিরাপ, একটি মোটরসাইকেল ও নগদ টাকাসহ সোহেল রানা (৩১) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই রাতে রাজপাড়া থানার দাশপুকুর এলাকা থেকে আট পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ পেশাদার মাদক কারবারি নয়ন (৪০)কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
নগরীর লক্ষ্মীপুর ভাটাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে রুনা বেগম (২৯) নামের এক নারীকে ৮৭ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তার স্বামী কাওসার (৩৯) ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া পবা থানার দক্ষিণ পিল্লাপাড়া এলাকা থেকে ১০ পিস ইয়াবাসহ শরিফুল ইসলাম (৩৫), কর্ণহার থানার কুপেরহাট এলাকা থেকে ২০ গ্রাম গাঁজাসহ হাসান আলী (৩৮) এবং বোয়ালিয়া থানার তালাইমারী এলাকা থেকে ৩০ গ্রাম গাঁজাসহ ববিন ইসলাম (৩২)কে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যদিকে অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে কাশিয়াডাঙ্গা ও রাজপাড়া থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালানো হয়। অভিযানে হড়গ্রাম চারখুটার মোড় এলাকা থেকে রাজা হোসেন (৪৫) ও ইয়ার লতিফ চঞ্চল (৩০) এবং রাজপাড়ার দাশপুকুর এলাকা থেকে জিতু (২১) নামের তিন অনলাইন জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে অনলাইন জুয়ায় ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে।
আরএমপি মিডিয়া সেল জানায়, মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গত ২৪ ঘণ্টায় ডিবি ও বিভিন্ন থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে মোট ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ছয়জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, সাতজন মাদক মামলার আসামি এবং অন্যান্য অপরাধে আরও সাতজন রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নগরীতে মাদক, অনলাইন জুয়া ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
শুক্রবার গ্রেপ্তারদের প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
দৈনিক চেতনার কন্ঠ