ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নোয়াখালীতে যুবদল কর্মী রনি হত্যা:গ্রেপ্তার ওফাঁসির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন,ন্যায়বিচারের আশায় পরিবার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 7, 2026 ইং
নোয়াখালীতে যুবদল কর্মী রনি হত্যা:গ্রেপ্তার ওফাঁসির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন,ন্যায়বিচারের আশায় পরিবার ছবির ক্যাপশন: দৈনিক চেতনার কন্ঠ
ad728
নিজস্ব প্রতিবেদক জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল 

নোয়াখালীর কবিরহাটে মৎস্য খামারি ও যুবদলের সক্রিয় কর্মী মিজানুর রহমান রনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরিকল্পনাকারীসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি, এমনকি ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন তারা।

গত রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে জেলা শহর মাইজদীর টাউন হল মোড়ের একটি দৈনিক পত্রিকার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন নিহত মিজানুর রহমান রনির মামা মোশারেফ হোসেন, মা লাইলী বেগম, স্ত্রী সীমা আক্তার ও বোন শ্রাবণী আক্তার।

নিহতের পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মিজানুর রহমান রনি কবিরহাট উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের কালিরহাট বাজার এলাকার মৃত মো. শহিদ উল্যার ছেলে। তিনি মাছের প্রজেক্ট ও মুরগির খামারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয় ইউনিয়ন যুবদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব, জমি-জমা ও বিভিন্ন স্থানীয় বিষয় নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে রনির দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক কারণে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রনির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং তিনি কারাগারেও ছিলেন। ৫ আগস্টের পর কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে তিনি এলাকায় ফিরে আসেন।

পরিবারের অভিযোগ, এরপর স্থানীয় আব্দুল বাচেত হিরন ও এনামুল হক মাসুদসহ কয়েকজন বিএনপির নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় রনির সঙ্গে তাদের বিরোধ আরও গভীর হয় বলে দাবি পরিবারের।

নিহতের স্বজনরা আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ে কথিত ‘হাইব্রিড বিএনপি’র বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার কারণেও রনির ওপর একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ ছিল। তাদের দাবি, এ বিরোধের জেরেই রনিকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১০ জানুয়ারি জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রনির শ্বশুর ও শ্যালক আরাফাত হোসেন ওরফে জামালের সঙ্গে একই এলাকার নূর মোহাম্মদ ওরফে বাচ্ছুর বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে বিরোধ মীমাংসার কথা বলে তাদের ডেকে নিয়ে মারধর করা হলে তারা আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় রনির সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধ আরও বাড়ে বলে দাবি করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টার দিকে অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তি মাছের প্রজেক্টের কাজের কথা বলে রনিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে রাত ৯টা ৫৯ মিনিটের দিকে রনির ভায়রা আবু তাহেরকে ফোন করে এনামুল হক মাসুদ হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়। রনিকে কোনো ধরনের বাধা না দেওয়ার জন্য বলা হয় এবং অন্যথায় তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন স্বজনরা।

নিহতের পরিবারের আরও অভিযোগ, রনির মাছের প্রজেক্টের স্ট্যাম্প এনামুল হক মাসুদের কাছে ছিল। ওই স্ট্যাম্প ফেরত চাওয়া এবং তা ফেরত না দিলে বিনিয়োগ করা ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় ‘আলেম’ নামের এক ব্যক্তি রনিকে মারধর করেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

পরিবারের দাবি, মারধরের পর প্রাণ বাঁচাতে রনি কালিরহাট বাজারের পেছনের উত্তর পাশের সড়কের দিকে দৌড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে হিরন ও মাসুদের সঙ্গে জড়িত একটি পক্ষ তার মাথা ও মুখমণ্ডলে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে দাবি পরিবারের।

পরিবারের সদস্যরা আরও অভিযোগ করেন, পরে ঘটনাটিকে ‘গণপিটুনি’ হিসেবে প্রচার করা হয়। তাদের দাবি, রনির মাথা ও মুখমণ্ডল ছাড়া শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন ছিল না এবং তার পরনের শার্টের বোতামও ছেঁড়া ছিল না।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সীমা আক্তার বাদী হয়ে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি কবিরহাট থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবারের সদস্যরা বলেন, তারা কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, বরং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং সুষ্ঠু বিচার চান। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

একই সঙ্গে আব্দুল বাচেত হিরন ও এনামুল হক মাসুদসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, আদালতের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত এবং নিহত রনি হত্যার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানান পরিবারের সদস্যরা।

তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চেতনার কন্ঠ

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আমি চুয়েটের শিক্ষার্থী, তাই আবেগ ও দায়বদ্ধতাও বেশি : চুয়েটের

আমি চুয়েটের শিক্ষার্থী, তাই আবেগ ও দায়বদ্ধতাও বেশি : চুয়েটের