লেখক
মোছাঃসুলতানা মাহবুবা
'সংস্কার' শব্দটা বোঝার বিষয়ে আমাদের একটু ভুল বোঝাবুঝি আছে। আর থাকাটাই স্বাভাবিক। আমরা যারা আমজনতা আছি তারা কথাটির সাথে খুব একটা পরিচিত নই। আবার যারা মোটামুটি বুঝি তারা সাধারণত পিছু ভয়ে থাকি এবং নিছক এটাকে পরিবর্তন হিসেবেই ধরে নিই। আর এটাই সেই পিছু ভয়। আমরা স্বাভাবিকভাবেই ধরে নেই এটা পরিবর্তন হলে না জানি কি হবে? আবার যদি এখানে নিজের স্বার্থটা না থাকে বা স্বাধীনতার খর্ব হয় ইত্যাদি ইত্যাদি। এবার যারা এটার সঠিক ব্যাখ্যাটা জানি বা এ ব্যাপারে অকুতোভয়, এদের সংখ্যাটা মুষ্টিমেয় হাতে গোনা। তাই এই হাতে গোনা লোকের দ্বারা সংস্কারের কাজটা অরণ্যে রোদন মাত্র। কাজেই তারা মুখ খোলার চেয়ে বরং নিরব ভূমিকা পালন করাটায় অধিক যুক্তিযুক্ত মনে করে। এছাড়া তাদের কোন গত্যান্তর নেই। তবে সংস্কারের ব্যাপারে স্বচ্ছ ধারণা থাকাটাই জরুরী বলে আমি মনে করি। 'সংস্কার'বলতে সাধারণত যা বোঝায় তা হল,ভাঙা-চোরা জিনিসকে জোড়া দেয়া বা প্রলেপ দেয়া, ছেড়া-ফাটা জিনিসকে সেলাই করা বা তালি-পট্টি দেয়া,রাস্তা-ঘাট,বাড়ি-ঘর,দালান-কোঠা, কোন প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে গেলে বা খাম-ক্ষতি হলে তা পূণরায় গড়া বা ভালো করা। আবার কারও সংসারে বা মনে ফাটল ধরলে কোন বিশেষ ব্যক্তিবর্গের দ্বারা জোড়-তালি দেওয়ার চেষ্টা করা বা বোঝানোর চেষ্টা করা, এমনকি ধর্মীয় বোধ-বিশ্বাসে কুসংস্কার থাকলে তা সঠিকভাবে বোঝানো, পূরনো অথচ অগ্রহণযোগ্য কোন নীতিমালা সংশোধন করে যুগপোযোগী করে তৈরি করা। একসময় যেমন আমরা অন্ধকার যুগে ছিলাম এরপর সভ্যযুগে এসেছি তারপর ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করেছি আবারো স্মার্ট যুগে পদার্পনের দ্বারপ্রাণ্তে আছি। এসবতো সংস্কারেরই ফল তাই কিনা। আর যদি সরাসরি বিশালাকার পরিবর্তন বুঝি আর এর ভয়ে ভীত হয়ে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেই তাহলে যেমন এর সঠিক ব্যবহারের সুফল থেকে বঞ্চিত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে তেমনি এভাবেই ভাঙা-চোরা জাতি হিসেবে মূল্যায়িত হওয়াটাই স্বাভাবিক। না হয় অজ্ঞতার গ্লানি নিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকাটাই আমাদের জন্য উচিত শিক্ষা বলে ভাবতে হবে। তাই এ 'সংস্কার' কথাটার পিছনে যে গূঢ় রহস্য এবং অর্থ লুক্কায়িত আছে সেটা যদি বোঝার চেষ্টা করি তাহলে আমরা একটি উন্নত জাতি হিসেবে গোটা বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবো। মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদেক কবুল করুন।।
দৈনিক চেতনার কন্ঠ