লেখক
মোছাঃ সুলতানা মাহবুবা
আমি আশ্চর্য হই তখনই যখন আমরা কেউ মহান সৃষ্টিকর্তার দোহায় দিয়ে কথা বলি তখন কিছু মানুষের গায়ে জ্বালা শুরু হয়ে যায়। এটা যে কেন হয় বুঝতে পারিনা।তাহলে কী তারা স্বীকার করতে চায়না যে আমাদেরকে সেই মহান সৃষ্টিকর্তাই সৃষ্টি করেছেন? আর তিনি জীবন-মৃত্যুর মালিক। তিনি আমাদেরকে দু'টো চক্ষু দিয়েছেন। তা না হলে আমরা এই পৃথিবীর মুখ দেখতে পারতাম না। দু'টো হাত না দিলে কোন কিছু ধরে খেতে পারতামনা। দু'টো পা না দিলে যেখানে-সেখানে যেতে পারতামনা। মুখ না দিলে কথা বলতে পারতামনা।এভাবেই প্রত্যেকটা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কথা যদি ভাবি তাহলে আমরা পুরোটাই অচল। তাহলে কিসের দম্ভ করি আমরা?আর তাঁর কাছেই যখন প্রত্যাবর্তন করতে হবে তাহলে এই দাম্ভিকতারই বা কি মূল্য আছে? কাজেই ঐ সৃষ্টিকর্তার কথায় কী এমন বিষ আছে যে মানুষের গায়ে জ্বালা ধরে? (নাউজুবিল্লাহি মিন যালিক)। কিছুদিন আগেও শুনেছি কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সৃষ্টিকর্তাকে উদ্দেশ্য করে কোন কথা বলা যাবেনা বা কোন কথা যদি ইসলামের পক্ষে যায় সেটাও নাকি দোষণীয়। তাহলে জঙ্গি বা মৌলবাদী বলে আখ্যা দেবে বা চাকুরি নিয়ে সমস্যা হবে। কী আশ্চর্য জুজুর ভয়! নিশ্চিত এটাই যদি বাস্তবতা হয় তাহলে আমাদের জন্ম হওয়াটাইতো বৃথা। মূলই যদি না থাকে তাহলে কীসের উপর একটি গাছ দাঁড়িয়ে থাকবে? এই পৃথিবীর স্থিরতার জন্য যে পাহাড়রুপী পেরেক ঠুকিয়ে রাখা হয়েছে যা না হলে এই পৃথিবী টালমাটাল অবস্থায় থাকত। তাহলে আমাদের পরিস্থিতিই বা কী হতো তা সহজেই অনুমেয়। এসব তো একান্তই সত্য ও বাস্তব। তাহলে এই মূর্খতার অর্থটায় বা কী তা আমার বুঝে আসেনা। কাজেই সৃষ্টিকর্তার দোহায় দিয়ে যারা কথা বলে তাদের মুখ চেপে ধরার অর্থটাই বা কী? এইসব প্রশ্নের উত্তরদাতা হিসেবে ঐসব মৌলবাদ বিরোধী লোকেদের উপরেই ছেড়ে দেওয়া গেল। তারাই বিবেচনা করবেন মৌলবাদীরা কী সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে যাবেন না পক্ষে চলবেন। এট আামার তাদের কাছে মৌলিক প্রশ্ন থাকবে।উত্তরের আশায় রইলাম। ইসলামবিদ্বেষীরা যে জুজুর ভয় এতদিন দেখিয়েছেন সেই ভয়টা এত তাড়াতাড়ি কী করে কেটে গেল বুঝতে পারলামনা। যে প্রতিষ্ঠানে "ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা" পাঠ্যপুস্তকের পাঠ ছাড়া ইসলামের কোন কথা বলা যেতনা, নামাযের জন্য জোর তাকিদ দেয়া যেতনা, সেই প্রতিষ্ঠানেই আজ ঘটা করে শিক্ষককে দায়িত্ব দিয়ে নামায পড়ানো হয়। সৃষ্টিকর্তার নাম মুখে উচ্চারণ করে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা হয়।তাহলে কী সেই মৌলবাদীর ভূতটা তাদের ঘাড় থেকে নেমে গেছে?বলছিলাম আমাদের দেশেরই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার ভাগোলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কথা। যখন আমরা এসবের ভয় করতাম তখন আসলেই কী জুজুর ভয় করতাম না কী অজ্ঞতা? সত্যিকার অর্থে অজ্ঞতা না হয় চাকুরি হারানোর ভয়। যেখানে ইসলাম সাম্যের কথা বলে, নৈতিকতার শিক্ষা দেয়, নিরপেক্ষতার কথা বলে সেখানে এই ছোট ছোট কচিকাচা বাচ্চাদেরকে এসব ধর্মীয় বিষয়াশয় থেকে দূরে রাখা আমি সমীচিন বলে মনে করিনা। আজ যদি কচি মস্তিষ্কে এইসব নৈতিকতা ঢুকানো না যায় তাহলে অদূর ভবিষ্যতে এদের দ্বারা সমাজের ভালো কিছু আশা করা অসম্ভব। তাই আমাদের উচিত আর কালক্ষেপণ না করে এখন থেকেই তাদেক নৈতিকতার শিক্ষা দিয়ে সমাজের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এবং রাষ্ট্রের কর্ণধাররুপে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জোর প্রচেষ্টা চালানো। পরিশেষে আমাদের চাওয়া উচিত যে রাষ্ট্রব্যবস্থা আমাদের এই মৌলিক বিষয়গুলোতে বাধা দেবেনা বরং তারাই মূল রাষ্ট্রের কর্ণধার হয়ে ইসলামের পক্ষের কাজের হুকুম দেবে, উৎসাহিত করবে এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।যেমন-বর্তমানে কিছুটা হলেও মনুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছে। স্বাধীনভাবে কিছু বলা বা চলার ক্ষেত্রে নির্দ্বিধায় অংশগ্রহণ করতে পারছে। মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে কবুল করুন।
দৈনিক চেতনার কন্ঠ