আকতারুজ্জামান, রাজশাহী :
রাজশাহীর তানোরে রাস্তার দুপাশে সামাজিক বনায়ন বিভাগের বিভিন্ন প্রজাতীর হাজারের অধিক তরতাজা বিভিন্ন প্রজাতীর গাছ কর্তন করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়ন ইউপির কচুয়া জিতপুর হতে পাঁচন্দর গ্রামের রাস্তা পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার রাস্তার গাছ কাটার ঘটনা ঘটে রয়েছে।
একসাথে এত পরিমান গাছ কাটার কারনে চরম হুমকিতে পড়েছে পরিবেশ বলে দাবি স্থানীয়দের। কোন কারন ছাড়াই বন বিভাগ টেন্ডারের মাধ্যমে এত পরিমান গাছ কাটার কারনে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন পরিবেশ বিদরা। খরা প্রবন বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত তানোর উপজেলা। এউপজেলায় বেশিবেশি গাছ রোপনের উপর জোর দিচ্ছে পরিবাশ বাদীরা। আর বন বিভাগ অযথা গাছ কর্তন করে পরিবেশের বারোটা বাজিয়েছ বলেও দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের দাবি, রাস্তার দুপাশে গাছগুলো সৌন্দর্য বহন করছিল। বিশেষ করে খরা মৌসুমে এলাকার শ্রমিকরা বা পথচারিরা রাস্তার এসব গাছের নিচে ক্লান্ত শরীর আরামের জন্য বসে শীতল হন। আর বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন প্রজাতীর পাখিরা গাছের ডালে থাকত এবং বাসা তৈরি করে বাচ্চা দিত। গাছগুলো কাটার পর থেকে পাখিদের আর দেখা মিলেনা। নেই পাখিদের কলরোহ। গাছ থেকে অক্সিজেন নিয়ে থাকে মানুষ। সেই অক্সিজেন থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে জনসাধারণ। উপজেলার মধ্যে পাঁচন্দর, বাঁধাইড়, কলমা ইউপির কিছু অংশ এবং মুন্ডুমালা পৌর এলাকাকে বরেন্দ্র অঞ্চল ও খরা প্রবন এলাকা হিসেবে পরিচিত। এসব এলাকায় খরা মৌসুমে প্রচন্ড তাপপ্রবাহ বিরাজ করে এবং শীত মৌসুমেও প্রচন্ড শীত অনুভত হয়। একারনে এসব এলাকায় বেশিবেশি গাছ লাগিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য গুরুত্ব দিচ্ছে পরিবেশ অধিদপ্তর বা সরকারসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।
উপজেলা বন বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, বিগত ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে জেলা বন বিভাগ থেকে ১ হাজার ৫৩ টি বিভিন্ন প্রজাতীর গাছের টেন্ডার আহবান করা হয়। ১ হাজার ৫৩ গাছের বিপরীতে ২১ লট তৈরি করা হয়। একেকটি লটে গাছ বিবেচনায় ৩০ টি, ৪০ টি বা ৫০ টি কিংবা ২৫ টি করে গাছ ধরা হয়। ২১ লটের মধ্যে ২০ টি লটের টাকা জমা হলেও একটি লটের টাকা জমা হয়নি। এজন্য একটি লটের গাছ কাটা শুরু হয়নি।
ডাসকো ফাউন্ডেশন লোকমর্চা তানোর উপজেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক মফিজ উদ্দিন জানান, এউপজেলা খরা প্রবন এবং বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এখানে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য বেশিবেশি গাছ রোপণ করা প্রয়োজন। কিন্তু গাছ রোপনের পরিবর্তে গাছ কাটা মানে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করা। তবে ক্ষতিকর ইউক্যালেক্টর গাছ কাটা সঠিক আছে। কিন্তু অন্য প্রজাতির গাছ কাটা মোটেও সঠিক হয়নি।
কারন পাঁচন্দর ইউনিয়ন অত্যান্ত খরা প্রবন এলাকা। সুতরাং গাছ কেটে পরিবেশের ক্ষতি করা বন বিভাগের খামখেয়ালি পনা ছাড়া কিছুই না। সরকার বরেন্দ্র অঞ্চল থেকে শুরু করে সব এলাকায় বেশি বেশি গাছ রোপন করে পরিবেশের ভারসাম্য বা জলবায়ুর বিরুপ প্রভাব মোকাবিলার কথা বলছেন। আর বন বিভাগ কিভাবে একসাথে এত পরিমান গাছে কাটে বুঝে আসেনা। এভাবে গাছ উজাড় হলে জলবায়ুর বিরুপ প্রভাব পড়বে বরেন্দ্র অঞ্চলে। আর এত দিনের নিলামের গাছ এখন কেন কাটা হবে বলেও প্রশ্ন রাখেন তিনি।
উপজেলা বন কর্মকর্তা একেএম সারোয়ার হোসেন জানান, গাছ কাটার অর্থ সামাজিক বনায়ন সংগঠনের উপকার ভোগীরা ৫৫% টাকা পাবে। উপকার ভোগীর সংখ্যা রয়েছে ২৫ জন। ইউনিয়ন পরিষদ পাবে ৫% টাকা, রাস্তার মালিক পাবে ২০% সরকারের রাজস্ব ১০% এবং পুনরায় গাছ রোপনের জন্য থাকবে ১০% টাকা। কি প্রজাতির গাছ ছিল জানতে চাইলে তিনি জানান, শিশু, নিমজিরি, অর্জন ও আকাশমনি এবং ইউক্যালেক্টর। গাছ গুলো রোপন করা হয়েছিল কখন জানতে চাইলে তিনি জানান, বিগত ২০০৩ ও ২০০৪ সালের দিকে রোপন করা হয়। খরা প্রবন এলাকার কারনে সরকারি ভাবে গাছ কাটা নিষিদ্ধ আছে প্রশ্ন করা হলে উত্তরে বলেন, বন বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী গাছ নিলামের মাধ্যমে কাটা হয়েছে এবং পদ্মা নদী থেকে বিএমডিএ পানি সরবরাহ করবে একারনে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে খাগরাকান্ত থেকে সাদিপুর পর্যন্ত খালের দুপাশে থাকা গাছ কাটা হবে। তবে কত টাকায় ২১ লটের গাছ টেন্ডার হয়েছে এবিষয়ে কোন কিছু বলতে পারেনি তিনি।
দৈনিক চেতনার কন্ঠ