কুমিল্লা জেলা বুড়িচং উপজেলা কালিকাপুর কলেজ মাঠে, ২ নং বাকশীমুল ইউনিয়নের পেছনে একসময় নিয়মিত তিনটি মাহফিল হতো। আজ সেখানে মাহফিল নেই, আছে শুধু নীরবতা। এই নীরবতা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়—এটা আমাদের ভেতরের বিশ্বাসঘাতকতার ফল।
সবচেয়ে ভয়ংকর বাস্তবতা হলো—
কিছু মানুষ সুন্নীর লেবাস পরে, সুন্নীর নাম ব্যবহার করে এলাকায় ঘুরে বেড়ায়;
দিনের বেলা দরুদ-তসবিহর কথা বলে,
আর রাতের বেলা মোনাফেকি রাজনীতির আড্ডায় গিয়ে বসে।
যাদের সঙ্গে বসলে সুন্নীদের আদর্শ বিক্রি হয়ে যায়,
যাদের রাজনীতিতে রাসূল ﷺ–এর ভালোবাসার কোনো জায়গা নেই,
তাদের সঙ্গেই ওঠাবসা করে—
আবার নির্লজ্জভাবে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের রাজনীতিতে কমিটির সভাপতি হতে মরিয়া হয়ে ওঠে!
প্রশ্ন হলো—
যার আদর্শে সুন্নাত নেই,
যার কাজে ঐক্য নেই,
যার চরিত্রে ইখলাস নেই—
সে কীভাবে সুন্নীদের প্রতিনিধি হয়?
এই ভণ্ডামির কারণেই আজ মাহফিল বন্ধ,
এই দ্বিমুখী চরিত্রের কারণেই আজ সুন্নীরা বিভক্ত,
আর এই বিভক্তির সুযোগে সুন্নীদের শূন্য মাঠে জয়জয়কার হচ্ছে মোনাফেকদের।
আজ কেউ ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ নিয়ে বিভক্ত,
কেউ মাজীউন্নবী নিয়ে আলাদা,
কেউ বড় মিয়া, মেজো মিয়া, ছোট মিয়ার মুরিদ—এই নামে নামে সুন্নীদের চৌচির করা হচ্ছে।
যেখানে রাসূল ﷺ–এর নামে এক কাতারে দাঁড়ানোর কথা ছিল,
সেখানে আজ চেয়ার, পদ আর কমিটির লোভে সুন্নীদের বিশ্বাস বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।
সত্য কথা কঠিন—
যে ব্যক্তি মোনাফেকদের সঙ্গে আপস করে ক্ষমতার স্বপ্ন দেখে,
সে কখনোই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের খাদেম হতে পারে না।
এখনই সময় মুখোশ খুলে ফেলার।
সুন্নীর নাম ব্যবহার করে সুন্নীদের সর্বনাশ করার রাজনীতি বন্ধ করতে হবে।
নইলে মনে রাখতে হবে—
মাহফিল বন্ধ হলে দায় শুধু বাইরের শত্রুর নয়,
দায় ভেতরের ভণ্ড সুন্নীদেরও।
ঐক্যই সুন্নীদের শক্তি,
আর ভণ্ডামিই সুন্নীদের সবচেয়ে বড় শত্রু।
দৈনিক চেতনার কন্ঠ