মােঃ মানিক ইসলাম , ঠাকুরগাঁও:
প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের সুফল হিসেবে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা থেকে আলাদা হয়ে নবগঠিত ‘ভূল্লী উপজেলা’ আত্মপ্রকাশ করলেও সাধারণ মানুষ ভূমি সেবা নিয়ে এক প্রকার চরম জটিলতায় পড়েছেন।
নতুন উপজেলা ঘোষণার পর এখনো তহসিল বা ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত রূপান্তর সম্পন্ন না হওয়ায় স্থানীয় ভূমি মালিকেরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
নতুন করে জমি খারিজ (নামজারি) এবং অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত নানা বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাঁদের।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন পর ভূল্লী উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনিক এই পরিবর্তনের ফলে ভূমি ব্যবস্থাপনা সিস্টেমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। পূর্বে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার অধীনে থাকা মৌজাগুলো নতুন ভূল্লী উপজেলার আওতাভুক্ত হলেও কেন্দ্রীয় ভূমি সার্ভার ও ই-মিউটেশন সিস্টেমে এখনো প্রয়োজনীয় আপডেট বা কোড পরিবর্তন না করায় এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী জমির মালিকরা জানান, জমির নামজারি বা অনলাইনে খাজনা পরিশোধ করতে গেলে সার্ভারে আগের সদর উপজেলার নাম কিংবা ত্রুটিপূর্ণ ডেটা প্রদর্শন করে। অনেক সময় নতুন উপজেলার নাম সিলেক্ট করার অপশন না থাকায় আবেদন করা সম্ভব হয় না।
এর ফলে জরুরি প্রয়োজনে জমির দলিল সম্পাদনসহ নানা প্রাতিষ্ঠানিক কাজ আটকে যাচ্ছে। দিনের পর দিন তহসিল অফিসে ঘুরেও আশানুরূপ সমাধান মিলছে না বলে অভিযোগ তাঁদের।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সেন্ট্রাল সার্ভারে ভূল্লী উপজেলার নতুন কোড সংযুক্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতে অনলাইন সেবা পুরোপুরি সচল করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় সাধারণ মানুষকে সেবা পাওয়ার জন্য এই অপ্রয়োজনীয় হয়রানির শিকার হতেই হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভুক্তভোগীরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, সার্ভার আপডেট ও প্রশাসনিক দ্রুত সমন্বয়ের মাধ্যমে খুব শীঘ্রই ভূল্লী উপজেলার ভূমি সেবা স্বাভাবিক হবে এবং সাধারণ মানুষ এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন
দৈনিক চেতনার কন্ঠ