ঢাকা | বঙ্গাব্দ

রাজৈরে বিজ্ঞ আদালতের ১৪৪ ধারা দরজার সামনে দেওয়াল নির্মাণ, অবরুদ্ধ বিধবা পরিবার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 7, 2026 ইং
রাজৈরে বিজ্ঞ আদালতের ১৪৪ ধারা দরজার সামনে দেওয়াল নির্মাণ, অবরুদ্ধ বিধবা পরিবার ছবির ক্যাপশন: দৈনিক চেতনার কন্ঠ
ad728
স্টাফ রিপোর্টার্স।


মাদারীপুরের রাজৈরে মা মেয়ের একমাত্র সম্বল বসত বাড়ি বিক্রি না করায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঘরের দরজার সামনে দেওয়াল নির্মাণ করে ঘর থেকে বের হবার পথটুকু বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিপক্ষরা যাহা সরজমিনে দেখা যায় ।  ঘরের মধ্যে অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছে ভুক্তভোগী মা মেয়ে। ঘটনাটি ঘটেছে মাদারীপুরের রাজৈর পৌরসভার কুঠিবাড়ি এলাকায়। এমন ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। 
ভুক্তভোগী নারগিস বেগম কুঠিবাড়ি এলাকার মৃত আলী আকবর বেপারীর স্ত্রী। এছাড়া অভিযুক্ত আজাদ রহমান লিটু আমগ্রাম মঠবাড়ী এলাকার মৃত মোবারক আলী মাতুব্বরের ছেলে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানায়, রাজৈর মৌজার বিআরএস ১৩৫ নং খতিয়ানের বিআরএস ৮৪৪৬ দাগ ও ৮৪৪৯ দাগে মোট সাড়ে ১০ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন নারগিস বেগমের শাশুড়ী। এর মধ্যে নারগিসের স্বামী আলী আকবরের নামে এক শতাংশ জমি লিখে দেওয়ার পর বাকি সব জমি বিক্রি করে দেন তিনি। জমিটি ক্রয় করেন আমগ্রাম মঠবাড়ী এলাকার মৃত মোবারক আলী মাতুব্বরের ছেলে আজাদ রহমান লিটু। এদিকে স্বামী আলী আকবরের মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া এক শতাংশ জমির ওপর ছোট একটি টিনশেড ঘর তুলে দুই সন্তান নিয়ে বসবাস শুরু করেন বিধবা নারী নারগিস। অভিযোগ উঠেছে, ওই জমিটি হাতিয়ে নেওয়ার পায়তারা চালায় পার্শ্ববর্তী জমির মালিক আজাদ রহমান লিটু। বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় চলাচলের রাস্তায় দেওয়াল নির্মাণ করে নার্গিস বেগম কে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
 গত ১১ই আগস্ট নারগিস আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করলে সকল কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিগার সুলতানা। তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ৩ সেপ্টেম্বর ভোরে লিটু তার লোকজন নিয়ে জোরপূর্বক নারগিসের ঘরের দরজার সামনে পাকা দেওয়াল নির্মাণ করে। এরপর অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে অসহায় নারগিসের পরিবার। 
এমন ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা৷ নারগিসের চলাচলের রাস্তাসহ সুষ্ঠুভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগী নারগিস বেগম বলেন, আমার মাত্র এক শতাংশ জায়গা। পাশ্ববর্তী আমার চাচা শ্বশুরের জায়গা দিয়ে চলাচল করতে হয়। এই সুযোগে আমার জায়গা তার কাছে বিক্রি করে দিতে বলে কিন্তু আমি রাজি না হওয়ায়   আমার দরজার সামনে দেওয়াল করে আমার চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে, এখন আমি বের হবো কিভাবে, আমি প্রশাসন এর কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।

 আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার কারণ জানতে লিটুর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে রাজৈর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আমিনুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখেছি, স্থানীয় বিএনপির দুই নেতা মিমাংসার জন্য সময় নির্ধারণ করেছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।

রাজৈর পৌরসভার প্রশাসক রোকসানা খাইরুন নেছা বলেন, যেকারোরই চলাচল রাস্তা দিতে হবে, বাসা থেকে বের হওয়ার রাস্তা তাকে দিতে হবে, নাগরিক হিসেবে অবশ্যই রাস্তা পাবে। বিষয়টি আমলে নিয়ে সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দেন।



নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চেতনার কন্ঠ

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ট্রাম্প ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন, প্রথম দিনেই সই করবেন রেকর্ডসংখ্য

ট্রাম্প ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন, প্রথম দিনেই সই করবেন রেকর্ডসংখ্য