ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরে তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দিনের পর দিন বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসা, বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম ও ইন্টারনেটনির্ভর বিভিন্ন সেবা।
নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা সদর এলাকায় তুলনামূলক ভাবে কিছুটা বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও গ্রামাঞ্চলের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। কোথাও এক থেকে দেড় ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও টানা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিসসহ সর্বস্তরের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
গ্রাহকদের অভিযোগ, ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে ফ্রিজ, টেলিভিশন, ফ্যানসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে লোডশেডিং অব্যাহত থাকলেও বিদ্যুৎ বিল কমছে না, বরং অনেকের বিল আগের তুলনায় আরো অনেক বেশি আসছে। বিষয়টি নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এদিকে সামান্য মেঘ বা বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া যেন নাসিরনগরে নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টির রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত সংযোগ পুনরুদ্ধার হয় না। ফলে বিদ্যুৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তি নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেক গ্রাহক। তারা নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নাসিরনগর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. বাচ্চু মিয়া বলেন,
জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সংকটের কারণে চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। নাসিরনগরে দিনে প্রায় ২২ মেগাওয়াট এবং রাতে প্রায় ২৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াটেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এ কারণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি ভুলতা-নরসিংদী ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইনের ওয়াই ফেজের কন্ডাক্টর ছিঁড়ে যাওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদী জেলায় সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। পাওয়ার গ্রিড কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমস্যা সমাধানে কাজ করছে এবং আগামী দুই দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ পরিস্থিতিতে ডিজিএম মো. বাচ্চু মিয়া গ্রাহকদের কাছে সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে দ্রুত স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন নাসিরনগরের বাসিন্দারা।
দৈনিক চেতনার কন্ঠ