ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নাচোলে ফতেপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বহিরাগতদের দাপট, প্রশ্নে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 14, 2026 ইং
নাচোলে ফতেপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বহিরাগতদের দাপট, প্রশ্নে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ছবির ক্যাপশন: দৈনিক চেতনার কন্ঠ
ad728
নাচোল প্রতিনিধি: মোঃ ইসমাইল হোসেন। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন—এমন এক ব্যক্তির মাধ্যমে নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষদের কাছ থেকে সরকারি নির্ধারিত ফির তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে ফতেপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি কার্যালয়ের একটি চেয়ারে বসে শরিফ নামে এক ব্যক্তি সেবাগ্রহীতাদের জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ করে দিচ্ছেন। সাংবাদিক পরিচয় গোপন রেখে কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, খাজনা পরিশোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে আগত ব্যক্তিদের অধিকাংশই শরিফের কাছে যাচ্ছেন।
অফিসের বারান্দায় দায়িত্ব পালনরত ঝাড়ুদার, যিনি শরিফের বাবা, সেবাগ্রহীতাদের সমস্যার কথা শুনে তাদের শরিফের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছিলেন। এ সময় কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) সাইফুল ইসলাম।
অভিযোগ রয়েছে, শরিফ সরকারি কর্মকর্তা না হয়েও জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ করে দিচ্ছেন এবং প্রতিটি কাজের জন্য সরকারি ফির তুলনায় ১০ থেকে ৪০ গুণ পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ নিচ্ছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, টাকা না দিলে কাজ করা হয় না। এমনকি কিছু গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের কাজেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জমি সংক্রান্ত যেকোনো কাজ করতে হলে চাহিদামতো টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়, যার সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী কৃষকরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কৃষক বলেন, "টাকা ছাড়া কাজ এগোয় না। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকলেও নানা অজুহাতে ঘোরানো হয়।"
খাজনা আদায়ের বিষয়ে তথ্য নিয়ে জানা যায়, ভূমি অফিসে নগদ অর্থ গ্রহণের সুযোগ নেই। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কৃষকদের অনলাইনের মাধ্যমে খাজনা পরিশোধ করার কথা এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার দায়িত্ব ভূমি অফিসের।

তবে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শরিফ। তিনি বলেন, তিনি সরকারি কর্মচারী নন, তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করেন।
এ বিষয়ে ফতেপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) সাইফুল ইসলাম বলেন, "শরিফ দীর্ঘদিন থেকেই এ অফিসে আছে, এখনও রয়েছে। তবে তার কোনো স্থায়ী বা অস্থায়ী সরকারি নিয়োগ নেই।"

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজিয়া সুলতানা বলেন- এর আগে তাকে অফিসে বসতে নিষেধ করা হয়েছিল। তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দাস বলেন, "সরকারি দপ্তরের দাপ্তরিক কাজ কোনো বহিরাগত ব্যক্তি করতে পারেন না। যদি এ ধরনের অনিয়ম বা প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চেতনার কন্ঠ

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ