ঢাকা | বঙ্গাব্দ

এলজিইডিতে ফ্যাসিস্টের দোসর রক্ষণাবেক্ষণ শাখার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বিতর্কিত প্রকৌশলী ইফতেখার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 24, 2026 ইং
এলজিইডিতে ফ্যাসিস্টের দোসর রক্ষণাবেক্ষণ শাখার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বিতর্কিত প্রকৌশলী ইফতেখার ছবির ক্যাপশন: দৈনিক চেতনার কন্ঠ
ad728
নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিচার মানি, কিন্তু তালগাছ আমার প্রচলিত এই জনশ্রুতি যেন আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-কে ঘিরে। সংস্থাটির গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী পদে প্রকৌশলী মির্জা মো. ইফতেখার আলীর সাম্প্রতিক পদায়ন নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে তৈরি হয়েছে তীব্র আলোচনা, সমালোচনা ও উদ্বেগ।

সম্প্রতি তাকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (রক্ষণাবেক্ষণ) পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এলজিইডির এই শাখার মাধ্যমে সারা দেশের গ্রামীণ সড়ক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে বছরে প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। ফলে পদটি আর্থিক ও প্রশাসনিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম-এর ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন ইফতেখার আলী। অভিযোগ রয়েছে, সেই প্রভাববলয়ের সুবিধা নিয়ে তিনি সংস্থার ভেতরে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেন।
১৯৯৫ সালে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে এলজিইডিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতনদের তোষামোদ এবং প্রশাসনিক কৌশল প্রয়োগ করে সুবিধা আদায়ের অভিযোগ ওঠে। ২০১২ সালে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে উন্নীত হওয়ার পর তার কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয় বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

মাগুরায় দায়িত্ব পালনকালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর এপিএস সাইফুজ্জামান শিখরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলে টেন্ডার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। পরে বদলি হলেও তার কর্মকাণ্ডের ধরনে পরিবর্তন আসেনি বলে দাবি স্থানীয়দের।
যশোর বিমানবন্দরে প্রায় ৩০ লাখ টাকাসহ আটক হওয়ার খবর সে সময় বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়ে। যদিও পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বিষয়টি আর অগ্রসর হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সবচেয়ে বড় অভিযোগ ওঠে কক্সবাজারে দায়িত্ব পালনকালে। রোহিঙ্গা প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দকৃত বিপুল অর্থের উন্নয়ন কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করে অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ সময় তিনি প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন বলে জানা যায়। এমনকি কক্সবাজারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্পত্তির তদারকির দায়িত্বও পালন করতেন এমন অভিযোগও রয়েছে স্থানীয় মহলে।

পরবর্তীতে তাকে কুমিল্লায় নিয়ে আসা হলে সেখানে তিনি এলজিইডির অলিখিত ‘পোস্টিং নিয়ন্ত্রক’ হিসেবে পরিচিতি পান বলে অভিযোগ ওঠে। বদলি বাণিজ্য ও দলীয় ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে বিপুল অর্থসম্পদের মালিক হয়েছেন এমন অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজেকে নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে উপস্থাপন করে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের পরিচালক (PD) পদও গ্রহণ করেন বলে জানা যায়।

বর্তমানে তাকে এলজিইডির রক্ষণাবেক্ষণ শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। কারণ, এই শাখার অধীনেই দেশের বিস্তীর্ণ গ্রামীণ সড়ক নেটওয়ার্কের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের একাংশের মতে, অতীতে নানা অভিযোগে বিতর্কিত একজন কর্মকর্তাকে এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো হলে সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার ও স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক।

বর্তমান সময়ে প্রশাসনিক সংস্কার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারিভাবে যে অঙ্গীকারের কথা বলা হচ্ছে, তার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের পদায়ন অনেকের কাছেই বিস্ময়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তাই এই খাতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সততা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হলে প্রতিষ্ঠান ও জনআস্থা উভয়ই সুরক্ষিত থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চেতনার কন্ঠ

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘গোপন রাজনীতি’ নিষিদ্ধের দাবি জানাল ছাত্রদ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘গোপন রাজনীতি’ নিষিদ্ধের দাবি জানাল ছাত্রদ