জীবন দেওয়ান
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় কারাগারে থাকা স্বামীকে জামিনে মুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক নারীর বাড়িতে যাতায়াত এবং পরবর্তীতে তাঁকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পুটিজানা ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হযরত আলী মণ্ডল (৩৮)-এর বিরুদ্ধে।
অভিযোগে যা জানা গেছে
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই নারীর স্বামী গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে একটি সংঘর্ষের মামলায় কারাগারে রয়েছেন। স্বামীকে জামিনে মুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে হযরত আলী মণ্ডল ওই নারীর বাড়িতে যাতায়াত শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্ত তাঁর ঘরে প্রবেশ করে কুপ্রস্তাব দেন এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় নারীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে আলোচনা
ঘটনার ৬ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগেই সন্দেহ হওয়ায় ওই নারী মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণের ব্যবস্থা করেছিলেন বলে জানা গেছে। তবে ভিডিওটির বিষয়বস্তু ও ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
থানায় মামলা, গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান
ভুক্তভোগী নারী গত ২৯ অক্টোবর রাতে ফুলবাড়িয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। অন্যদিকে, মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তের পক্ষ থেকে তাঁর পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ওই নারী।
এদিকে, গত ৩০ অক্টোবর ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে হযরত আলী মণ্ডলকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
অসহায় মানুষের বিপদের সুযোগ নিয়ে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে ন্যায়বিচার চাইতে গিয়ে যেন কোনো নারী ও তাঁর পরিবার নতুন করে নিরাপত্তাহীনতায় না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
রাজনৈতিক পরিচয়, পদ-পদবি কিংবা ক্ষমতার প্রভাব যেন কোনোভাবেই বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
আইনের চোখে সবাই সমান। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ।
দৈনিক চেতনার কন্ঠ