মাসুদ চৌধুরী সাঈদ:
মানিকগঞ্জে বাড়িতে হামলা, মারধর করে টাকা লুটপাট ও এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টায় অতিরিক্ত নির্যাতনের শিকারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পর বাড়ি থেকে বের না হওয়ার জন্য মেরে ফেলার হুমকি দেন সন্ত্রাসী বাহিনী। পরবর্তীতে নিজ বাড়ি থেকে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় চিকিৎসা নেয়ার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন। এবিষয়ে থানায় মামলা করার সুযোগ না পেয়ে মানিকগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী মালেকা বেগম (৪৪)। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে সন্ত্রাসী বাহিনীর তান্ডবে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ বাহিনী- বিশেষ করে, শাওন ও অনিক রাজবংশীর নেতৃত্বে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজিসহ মাদকের ব্যাপক ছড়াছড়ি রয়েছে বলে জানা যায় অনুসন্ধানে। এরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জেলার সহ-সম্পাদক পদধারী সন্ত্রাসী নেতা। স্বৈরাচার আওয়ামী পতনের পর আবার বিএনপির নেতাদের পা চেটে ছায়াতলে আসে। সন্ত্রাসীরা সবসময় ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় থাকে। এভাবে যাকেতাকে যাচাই-বাছাই ছাড়া বিএনপিতে স্থান দিলে বদনাম হবে বলে অভিমত সুধীমহলের। এদের দ্রুত বয়কট করতে হবে জানান বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। মানিকগঞ্জে ঘিওর উপজেলার নালী ইউনিয়ন হেলাচিয়া গ্রামে অরুণ সরকারের বাড়িতে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে হামলা, মারধর, লুটপাট ও মধ্যবয়সী এক নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মালেকা বেগম (৪৪) নামে এক নারী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। মামলার ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন ২০২৬, রবিবার আনুমানিক বেলা ৫ ঘটিকায় হেলাচিয়া গ্রামে অরুণ সরকারের বাড়িতে একদল সন্ত্রাসী হামলা চালায়। শাওন ও অনিক রাজবংশী কৃষ্ণের নেতৃত্বে ১০/১২ জনের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলা চালায়। এ হামলায় মালেকা বেগমের ঘরে ঢুকে অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। একপর্যায়ে তার পরনের কাপড়-চোপড় ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। তাঁর আত্মচিৎকারে আশেপাশের মানুষ এগিয়ে এলে নগদ ৭৫ হাজার টাকা মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার সহ ২ লাখ টাকার মালামাল লুট করে দ্রুত হামলাকারী সন্ত্রাসীবাহিনী পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা মালেকা বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ঘটনায় মালেকা বেগম বাদী হয়ে শাওন পিতা বাদল বেপারী ও অনিক রাজবংশী কৃষ্ণ পিতা মৃত লালমোহন ১১ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন।মামলা নং ১৫৫/২০২৬।
অভিযোগে আরো জানা যায়, অরুণ সরকারের বাড়ি থেকে মালেকা বেগম পাঁচ শতাংশ জমি ক্রয় করে সেখানে বসবাস করেন। এরপর থেকেই প্রতিবেশী কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়। মালেকা বেগম ঘর তুলে বসবাস করা অবস্থায় শাওন, অনিকসহ কয়েকজন মিলে চাঁদা দাবি করে আসছিল। মালেকা চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে পরিকল্পিত ভাবে ঘরে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায়। এলাকাজুড়ে চলছে আতঙ্ক। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সচেতন মহল। ভুক্তভোগী মালেকা বেগম মুঠো ফোনে জানান, আমি একজন অসহায় মানুষ। ছেলে-মেয়ে নিয়ে কোনরকম জীবন যাপন করছি। এরই এলাকার একদল সন্ত্রাসী অতর্কিত ভাবে ঘরে প্রবেশ চাঁদা চেয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে আমাকে প্রচন্ড মারধর করে। তারপর আমার পরনের কাপড় চোপড় ছিঁড়ে ফেলে ধর্ষণের চেষ্টা করে। কোনমতে ইজ্জত রক্ষা পাই। এখন আমি নিজ বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আছি। যেকোনো সময় আমার সন্তানসহ আমাকে মেরে ফেলবে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে ঘিওর থানার এসআই মোঃ মিজানুরের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ঘটনাটি সত্য এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৈনিক চেতনার কন্ঠ