ঢাকা | বঙ্গাব্দ

শেকড় থেকে শিখর: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক যাত্রা ও রাষ্ট্রপতির আসন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 9, 2026 ইং
শেকড় থেকে শিখর: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক যাত্রা ও রাষ্ট্রপতির আসন ছবির ক্যাপশন: দৈনিক চেতনার কন্ঠ
ad728
মোঃ মানিক ইসলাম, ঠাকুরগাঁও 

​বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শিক্ষকতা দিয়ে পেশাজীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে নিজেকে এ দেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। 

তৃণমূলের রাজনীতি থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ, দলের মহাসচিব এবং পরিশেষে দেশের রাষ্ট্রপতির সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আসনে তাঁর আসীন হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।  

​শিক্ষকতা ছেড়ে স্থানীয় সরকার ও রাজনীতিতে প্রবেশ
​মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের এক সম্ভ্রান্ত রাজনৈতিক পরিবারে. তাঁর পিতা মির্জা রুহুল আমিনও ছিলেন প্রথিতযশা 

রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। 
ছাত্রজীবনে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারে যোগ দিয়ে ঢাকা কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন।  

​১৯৮৬ সালে শিক্ষকতা পেশা থেকে ইস্তফা দিয়ে তিনি পুরোপুরি জনসেবা ও স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ওই বছরই তিনি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। স্থানীয় সরকার পর্যায়ে এই সফল জনপ্রতিনিধিত্বের মাধ্যমেই মূলত তাঁর আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী রাজনীতির সূচনা ঘটেছিল। 

পরবর্তীতে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন।  
​সংসদীয় রাজনীতি এবং মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন
​নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর থেকেই তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দলের প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন। 

১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর তিনি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। যদিও সেই সংসদ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

​পরবর্তীতে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে তিনি বিএনপি সরকারের কৃষি এবং পরবর্তীতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। 

দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দলটির  অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং ২০১১ সাল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিবের দায়িত্ব সফলভাবে সামলান।  

​রাষ্ট্রপতির আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
​বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। এরপর তিনি সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।  

​২০২৬ সালের আগস্ট মাসে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি জাতীয় সংসদের ভোটে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। একই বছরের ২১ আগস্ট তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম সফরে গেলে তাঁকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মাঝে অভূতপূর্ব আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।  
​পৌরসভার চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, দলের মহাসচিব এবং পরিশেষে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়—রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই উত্থান ঠাকুরগাঁওয়ের মাটি ও মানুষের সঙ্গে তাঁর নাড়ির টানেরই এক অনন্য স্বীকৃতি। 
তৃণমূলের রাজনীতি দিয়ে শুরু করা একজন নেতার রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ দায়িত্বে পৌঁছানোর এই যাত্রা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।




নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চেতনার কন্ঠ

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বাড়ির দোতলায়ও পানি, ভাই–বোনের খোঁজ পাচ্ছেন না গায়িকা পুতুল

বাড়ির দোতলায়ও পানি, ভাই–বোনের খোঁজ পাচ্ছেন না গায়িকা পুতুল