নাচোল প্রতিনিধি:
মোঃ ইসমাইল হোসেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা নিতে এসে মারধর ও চরম লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন এক দরিদ্র ভ্যানচালক। রোগী ভর্তি করা নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ্যাম্বুলেন্স চালক বারেক ভ্যানচালক তারিফ হোসেনকে লাথি মেরে মারধর করে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে এ ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও নাচোল বাজারের বাসিন্দা ভ্যানচালক তারিফের ছেলে ইমন জানান, শুক্রবার সকালে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসা সেবা নিতে ও হাসপাতালে ভর্তি হতে যান তারা। কিন্তু হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের ভর্তি নিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে এ্যাম্বুলেন্স চালক বারেক ক্ষিপ্ত হয়ে ভ্যানচালক তারিফকে লাথি মেরে মারধর শুরু করে এবং জোরপূর্বক হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়। একই সাথে কর্তব্যরত চিকিৎসকও তাদের সাথে অত্যন্ত অমানবিক আচরণ করেন এবং প্রশাসনিক প্রভাব ও পুলিশের ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অশ্রুসিক্ত চোখে ভ্যানচালকের ছেলে ইমন বলেন, "চিকিৎসা পাওয়া আমাদের মৌলিক অধিকার। আমরা দিন এনে দিন খাওয়া গরীব মানুষ, ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাই। সরকারি হাসপাতালে এসে যদি আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে মার খেতে হয়, তবে আমরা বিচার চাইতে কোথায় যাব?"
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ্যাম্বুলেন্স চালক বারেকের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও রোগী, রোগীর স্বজন এবং এমনকি হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বিগত সরকারের প্রভাব খাটিয়ে বারেক দীর্ঘদিন ধরে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছিল এবং তাকে নিয়ে একাধিক স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় পূর্বেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
এ ঘটনার পর নাচোল জুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। সেই সাথে অভিযুক্ত এ্যাম্বুলেন্স চালক বারেকের দ্রুত শাস্তিমূলক বদলি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
দৈনিক চেতনার কন্ঠ