এম. এ. আরিফ চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার:
দেশের বিভিন্ন বেসরকারি (প্রাইভেট) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের প্রতি অবহেলামূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। নিয়মিত মাসিক বেতন, সেশন ফি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বহন করার পরও অনেক অভিভাবক দাবি করছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁদের ন্যূনতম সম্মান ও গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠানে খালি আসন থাকা সত্ত্বেও অভিভাবকদের বসতে দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সন্তানের উন্নত শিক্ষার প্রত্যাশায় তাঁরা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করান। ভর্তি ফি, সেশন ফি, মাসিক বেতন এবং বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের পরও বিদ্যালয়ে গেলে তাঁদের অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। অথচ বসার জন্য খালি চেয়ার বা নির্ধারিত স্থান থাকলেও সেখানে বসতে নিরুৎসাহিত করা হয় বা অনুমতি দেওয়া হয় না বলে তাঁদের অভিযোগ।
বিশেষ করে প্লে, নার্সারি ও কেজি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বয়সী অনেক শিশু প্রথমদিকে একা বিদ্যালয়ে যেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। অভিভাবকের উপস্থিতি তাদের মানসিক সাহস জোগায় এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশের সঙ্গে ধীরে ধীরে মানিয়ে নিতে সহায়তা করে।
অভিভাবকদের মতে, যাঁদের অর্থে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালিত হয়, তাঁদের যদি ন্যূনতম সম্মান ও বসার সুযোগ না দেওয়া হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সেবার মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
একজন অভিভাবক বলেন, “আমরা সন্তানদের ভালো ভবিষ্যতের জন্য কষ্ট করে অর্থ ব্যয় করি। কিন্তু স্কুলে গিয়ে যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় এবং সম্মানের সঙ্গে বসার সুযোগও না পাই, তাহলে এমন প্রতিষ্ঠানে সন্তানকে পড়ানো নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।”
এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তাঁদের অনেকের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু পাঠদানের স্থান নয়; এটি মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক সম্মান ও সৌজন্যবোধ চর্চারও ক্ষেত্র। তাই অভিভাবকদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ এবং তাঁদের জন্য ন্যূনতম বসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়িত্ব।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শিক্ষাবিদদের মতে, একটি সুস্থ শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মানজনক সম্পর্ক অপরিহার্য। শিশুদের মানসিক বিকাশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি সম্মানজনক ও মানবিক আচরণ বজায় রাখা প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব।
অভিভাবকদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করবে, যেখানে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাঁদের অভিভাবকরাও যথাযথ সম্মান, সৌজন্য ও মানবিক আচরণ পাবেন।
দৈনিক চেতনার কন্ঠ