মো হেলাল উদ্দিন সজীব (ভোলা জেলা প্রতিনিধি
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি বসতবাড়িতে অতর্কিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ একই পরিবারের অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে জমি নিয়ে নাছির বাঘা ও শাহাবুদ্দিন গংদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিশ-বৈঠকও হয়েছে। আগামী ২০ এপ্রিল পুনরায় শালিশ হওয়ার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তার আগেই প্রতিপক্ষ শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে একদল লোক অতর্কিত এই হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহতরা হলেন:কবির (৪০)পিতা: নাছির বাঘা।শাহানাজ বেগম (৩০), স্বামী: মফিজ।আনোয়ারা (৭০) স্বামী: নাছির বাঘা।সনিয়া (২৩), স্বামী: ইব্রাহিম।আহতদের আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কবিরসহ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে আহত কবিরের পিতা নাছির বাঘা অভিযোগ করে বলেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে শামসুদ্দিন, হালিম, তৈয়ব, কুদ্দুস, ইব্রাহিম ও মিনহাজসহ ১০-১৫ জন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাদের বাড়িতে ঢুকে পড়ে। তারা হত্যার উদ্দেশ্যে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায় এবং ঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। শালিশি বৈঠক সামনে রেখে তারা এই হামলা চালিয়ে আমাদের উচ্ছেদ করতে চায়। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা দাবি করছি।" হামলার পর থেকে অভিযুক্ত শাহাবুদ্দিন ও তার সহযোগীরা পলাতক রয়েছে। তাদের বাড়িতে গিয়ে তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়, ফলে তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ এই ন্যাক্কারজনক হামলার দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানা সূত্র জানায়, হামলার ঘটনার খবর তারা পেয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলেই দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দৈনিক চেতনার কন্ঠ