প্রদীপ্ত চক্রবর্তী, পটিয়া (চট্টগ্রাম)
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম–১২ (পটিয়া) আসনে শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে বাজার, রাস্তার মোড়, পাড়া-মহল্লা—সবখানেই এখন নির্বাচনী আলোচনা। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মাইকিং, উঠান বৈঠক, পথসভা ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থী ও তাঁদের কর্মী-সমর্থকরা।
এই আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন— বিএনপির মোহাম্মদ এনামুল হক (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর ডা. ফরিদুল আলম (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু (মোমবাতি), ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ আবু তালেব হেলালী (আপেল), জাতীয় পার্টির ফরিদ আহমদ চৌধুরী (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের এস. এম. বেলাল নূর (হাতপাখা), এলডিপির ইয়াকুব আলী (ছাতা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শাখায়াত হোসাইন (ফুটবল)।
তবে নির্বাচনী মাঠের আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী মোহাম্মদ এনামুল হক, দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলম ও মোমবাতির প্রার্থী সৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু। এই তিন প্রার্থীর মধ্যেই মূল ভোটের লড়াই হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
পুরো এলাকা জুড়ে ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে ছেয়ে গেছে। উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রার্থীরা ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন, ভোটার কার্ড বিতরণ ও ভোট প্রার্থনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
পটিয়ার সংসদ নির্বাচনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই আসনে বিএনপি ৫ বার, আওয়ামী লীগ ৫ বার এবং জাতীয় পার্টি ও ন্যাপ ১ বার করে জয়ী হয়েছে। এবার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় দলটির ভোট ব্যাংক জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ কারণে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী ফ্রন্ট আওয়ামী লীগের ভোট নিজেদের দিকে টানতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, “আমি রাজনীতি করি সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য, ক্ষমতার জন্য নয়। মানুষের সেবা করতেই আমি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকার মানুষ যে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন, তাদের ন্যায্য দাবি ও উন্নয়নের কথা সংসদে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য।” তিনি আরও বলেন, “নির্বাচিত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান খাতে বাস্তবভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।”
জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে পটিয়ার মানুষ ন্যায়বিচার ও সুশাসনের অপেক্ষায়। এই নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, বেকারত্ব ও সন্ত্রাসমুক্ত পটিয়া গড়তে মানুষ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকেই রায় দেবে।”
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম–১২ (পটিয়া) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৪৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮১ হাজার ৪১৫ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৬৮ হাজার ০৭৯ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ জন।
এখন অপেক্ষার পালা—শেষ পর্যন্ত কার মাথায় উঠবে বিজয়ের মুকুট, সেটিই দেখার বিষয়।
দৈনিক চেতনার কন্ঠ