গৌরাঙ্গ বিশ্বাস, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
উত্তরের হাওয়ায় বসন্তের ছোঁয়া লাগতেই টাঙ্গাইল জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আম্র মুকুলের মিষ্টি সুবাস। জেলার ১২টি উপজেলাতেই এখন গাছে গাছে সবুজাভ-হলুদ মুকুলের সমারোহ। সকাল-বিকেল হালকা বাতাসে ভেসে আসা ঘ্রাণ জানিয়ে দিচ্ছে—মধুমাসের দিন আর বেশি দূরে নয়।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত আমবাগানগুলোতে মৌমাছির গুঞ্জন আর পাখির কোলাহলে মুখর পরিবেশ। কৃষকদের মুখে এখন আশার হাসি। অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে এ বছর আমের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন তারা।
১২ উপজেলাতেই মুকুলের সমারোহ
জেলার টাঙ্গাইল সদর উপজেলা, কালিহাতী উপজেলা, ঘাটাইল উপজেলা, মধুপুর উপজেলা, ধনবাড়ী উপজেলা, ভূঞাপুর উপজেলা, গোপালপুর উপজেলা, বাসাইল উপজেলা, সখিপুর উপজেলা, নাগরপুর উপজেলা, দেলদুয়ার উপজেলা ও মির্জাপুর উপজেলা—সবখানেই আম্র মুকুলে ভরে উঠেছে বাগান ও বাড়ির আঙিনা।
বিশেষ করে মধুপুর ও ঘাটাইলের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলঘেরা আমবাগান এবং কালিহাতী ও টাঙ্গাইল সদরের গ্রামীণ অঞ্চলে মুকুলের ঘ্রাণ এখন প্রকৃতিকে করেছে উৎসবমুখর।
অনুকূল আবহাওয়ায় আশাবাদী কৃষক
স্থানীয় আমচাষিরা জানান, চলতি মৌসুমে তাপমাত্রা অনুকূলে থাকায় এবং টানা কয়েকদিন রোদেলা আবহাওয়ায় গাছে ভালো মুকুল এসেছে। ঝড়, শিলাবৃষ্টি বা অতিরিক্ত কুয়াশা না হলে ফলন আশানুরূপ হতে পারে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এ সময় নিয়মিত বাগান পরিদর্শন, পোকার আক্রমণ প্রতিরোধ এবং ছত্রাকনাশক প্রয়োগ জরুরি। বিশেষ করে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় বা বৃষ্টিপাত হলে মুকুল ঝরে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
অর্থনীতি ও গ্রামীণ জীবনে প্রভাব
টাঙ্গাইলে বাণিজ্যিকভাবে আমচাষের পরিমাণ প্রতিবছর বাড়ছে। স্থানীয় বাজার ছাড়াও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এখানকার আম সরবরাহ করা হয়। ভালো ফলন হলে কৃষকের আয় যেমন বাড়বে, তেমনি জেলা অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
গ্রামীণ জীবনে আম্র মুকুল কেবল ফলনের ইঙ্গিত নয়—এটি ঋতু পরিবর্তনের এক আবেগঘন প্রতীক। বিকেলে আমবাগানে তরুণদের আড্ডা, শিশুদের খেলাধুলা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুকুলের ছবি—সব মিলিয়ে টাঙ্গাইল এখন বসন্তের সুবাসে মাতোয়ারা।
সবকিছু অনুকূলে থাকলে কয়েক মাস পরই জেলার বাজারগুলো সোনালি আমে ভরে উঠবে—এমনটাই প্রত্যাশা কৃষক ও সংশ্লিষ্ট সবার।
গৌরাঙ্গ বিশ্বাস,
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
০১৭১২৯০৮০৬৮
দৈনিক চেতনার কন্ঠ