প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 17, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 15, 2026 ইং
নিখোঁজের জিডি করতে গিয়েও স্বজনদের সঙ্গে ‘সন্ধান’ নাটক

নিজস্ব প্রতিবেদক মিসেস চামেলী আক্তার প্রিয়া
নিখোঁজ হওয়ার পর স্বজনদের সঙ্গে থানায় গিয়ে নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে সহযোগিতা করেছিলেন মাসুম। এরপর কয়েক দিন ধরে নিহত রনির স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে স্বামীকে খুঁজে বের করার চেষ্টার অভিনয়ও করেন তিনি। অথচ তদন্তে উঠে এসেছে, সেই সময় রনির মরদেহ ছিল মাসুমের ইমিটেশন কারখানার নিচেই।
ঘটনাটি রাজধানীর লালবাগ থানার এলাকায়। নিহত রনি প্রায় পাঁচ মাস আগে মাসুমকে ৩ লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ওই টাকার বিপরীতে মাসিক ৩৫ হাজার টাকা লভ্যাংশ/সুদ দেওয়ার কথা থাকলেও তা নিয়মিত পরিশোধ করছিলেন না মাসুম।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, পাওনা টাকার বিপরীতে একটি সিকিউরিটি চেক নেওয়ার জন্য ঘটনার দিন মাসুমের ইমিটেশন কারখানায় যান রনি। সেখানে টাকা ও চেক নিয়ে বিরোধের জেরে মাসুম প্রথমে রনির মাথায় আঘাত করে তাকে অচেতন করেন। পরে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
হত্যার পর মরদেহ গোপন করতে কারখানার নিচে মাটিচাপা দেওয়া হয়। তদন্তে আরও জানা যায়, মরদেহের ওপর প্রায় আট বস্তা বালু-মাটি দিয়ে চাপা দেওয়ার পর সিমেন্টের প্রলেপ দিয়ে জায়গাটি পাকা করে দেওয়া হয়েছিল। এভাবে মরদেহের কোনো চিহ্ন যাতে সহজে পাওয়া না যায় এবং দুর্গন্ধ ছড়িয়ে না পড়ে, সে ব্যবস্থাও করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো—রনি নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর ভাই যখন লালবাগ থানায় জিডি করতে যান, তখন মাসুমও তাঁদের সঙ্গে থানায় উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তী তিন দিন তিনি রনির স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে স্বামীকে খুঁজে দেওয়ার নামে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মাসুমের সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে আসার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মহানগর হাকিম আদালতে তিনি নিজের জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে স্বামীকে হারিয়ে রনির স্ত্রী তিন ছোট মেয়েকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন। স্বামীর নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, তাঁর স্বামী মানুষের উপকার করার উদ্দেশ্যে মাসুমকে টাকা দিয়েছিলেন। সেই পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে স্বামীকে এভাবে প্রাণ হারাতে হবে—এটি তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।
নিহত রনির পরিবারে এখন নেমে এসেছে গভীর শোক ও অনিশ্চয়তা। তিনটি ছোট মেয়েকে নিয়ে কীভাবে সংসার চালাবেন—এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁর স্ত্রী।
এই ঘটনায় একদিকে যেমন হত্যাকাণ্ডের নির্মমতা সামনে এসেছে, অন্যদিকে ব্যক্তিগতভাবে বড় অঙ্কের টাকা ধার দেওয়া ও পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও সতর্কতার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে অর্থনৈতিক লেনদেনে লিখিত চুক্তি, ব্যাংকিং চ্যানেল এবং প্রয়োজনীয় আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
© দৈনিক চেতনার কন্ঠ