
টঙ্গী হয়ে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৬ সম্প্রসারণের প্রস্তাব, যানজট থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখছেন লাখো যাত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: মিসেস চামেলী আক্তার প্রিয়া
আর আব্দুল্লাহপুর ব্রিজ কিংবা বিমানবন্দর সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হবে না—এমন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে যাচ্ছে রাজধানী ও গাজীপুরের গণপরিবহন ব্যবস্থায়। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চালু থাকা মেট্রোরেলকে টঙ্গী হয়ে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত সম্প্রসারণের প্রস্তাব ঘিরে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে।
ঢাকার অসহনীয় যানজটের কারণে প্রতিদিন বিপুল কর্মঘণ্টা ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন নগরবাসী। যানজটে গাড়ির গতি অনেক ক্ষেত্রে মানুষের হাঁটার গতির কাছাকাছি নেমে আসে। এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীর সঙ্গে গাজীপুরের দ্রুত ও আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে মেট্রোরেল সম্প্রসারণকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত সম্প্রসারণ বাস্তবায়িত হলে উত্তরা-মতিঝিলের বর্তমান এমআরটি লাইন-৬ টঙ্গী হয়ে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত পৌঁছাবে। এতে বিদ্যমান রুটের দৈর্ঘ্য প্রায় ২১ দশমিক ৬ কিলোমিটার থেকে বেড়ে প্রায় ৪১ দশমিক ৮ কিলোমিটার হওয়ার কথা রয়েছে।
কমবে যাতায়াতের সময়
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত যাতায়াতে বাসে যেখানে দীর্ঘ সময় লেগে যায়, মেট্রোরেলে সেই সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ মিনিটে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।
অন্যদিকে টঙ্গী থেকে মতিঝিল বা কমলাপুরে যাতায়াতেও সময় অনেক কমে আসতে পারে। টঙ্গী থেকে উত্তরা দিয়াবাড়ী পর্যন্ত যাতায়াতের ক্ষেত্রেও মেট্রোরেল চালু হলে সময়ের বড় সাশ্রয় হবে বলে পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
লাখো মানুষের যাতায়াতে স্বস্তির প্রত্যাশা
গাজীপুর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। প্রতিদিন গাজীপুর, টঙ্গী ও আশপাশের এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজধানীতে যাতায়াত করেন। মেট্রোরেল সম্প্রসারণ হলে এসব মানুষের জন্য দ্রুত, আরামদায়ক ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় দৈনিক বিপুলসংখ্যক যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতার কথাও বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গণপরিবহনের চাপ কমিয়ে উত্তরা, বিমানবন্দর ও আব্দুল্লাহপুর এলাকার যানজট নিয়ন্ত্রণে এটি ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুধু গাজীপুর নয়, প্রয়োজন সমন্বিত মেট্রো নেটওয়ার্ক
বিশেষজ্ঞ ও নগরপরিকল্পনাবিদদের মতে, রাজধানীর যানজট স্থায়ীভাবে কমাতে শুধু একটি রুট নয়—ঢাকা ও এর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল, আবাসিক এলাকা এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোকে দ্রুত গণপরিবহন নেটওয়ার্কের আওতায় আনা প্রয়োজন।
গাজীপুরের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহর ও শিল্পাঞ্চলেও প্রয়োজন অনুযায়ী মেট্রোরেল, মনোরেল কিংবা আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু করা গেলে মানুষের কর্মঘণ্টা বাঁচানোর পাশাপাশি অর্থনীতি আরও গতিশীল হতে পারে।
গাজীপুর থেকে রাজধানীতে প্রতিদিন যাতায়াতকারী লাখো মানুষের কাছে তাই প্রশ্ন একটাই—মেট্রোরেল সম্প্রসারণের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সত্যিই কি বদলে যাবে ঢাকা-গাজীপুরের যোগাযোগের চিত্র?
আপনার মতে, যানজটমুক্ত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশের কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মেট্রোরেল বা মনোরেল চালু করা উচিত?