
মোহাম্মদ হোসাইন, টেকনাফ, কক্সবাজার,প্রতিনিধি: কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৫। অভিযানে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বিদেশি সাবমেশিন গান (এসএমজি) উদ্ধার করা হয়েছে। একই দিনে নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি বসতঘরে অভিযান চালিয়ে ৩২৭ রাউন্ড রাইফেলের তাজা গুলিসহ সামসুন নাহার (১৮) নামে এক নারীকে আটক করেছে র্যাব।
র্যাব-১৫ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৩ আগস্ট ২০২৬ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে র্যাব-১৫-এর সিপিসি-১, টেকনাফ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কবরস্থান পাহাড়, যা স্থানীয়ভাবে জাকিরের ডেইল পাহাড় নামে পরিচিত, সেই এলাকার পাদদেশে অভিযান পরিচালনা করে।
র্যাবের কাছে তথ্য ছিল, ওই পাহাড়ি এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত করে রাখা হয়েছে। তথ্যের ভিত্তিতে আভিযানিক দলটি নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছে ব্যাপক তল্লাশি চালায়। একপর্যায়ে পাহাড়ের পাদদেশে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বিদেশি সাবমেশিন গান (এসএমজি) উদ্ধার করা হয়।
অস্ত্রটি উদ্ধারের পর এর মালিকানা ও কারা এটি সেখানে রেখে গেছে, তা জানতে স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পাশাপাশি র্যাব সদস্যরা বিভিন্নভাবে অনুসন্ধান চালান। তবে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা এসএমজির মালিকানা কিংবা এর সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে র্যাব।
একই দিনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দ্বিতীয় অভিযান
এদিকে একই দিন সন্ধ্যায় র্যাব-১৫-এর সদস্যরা টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ ব্লকে পৃথক অভিযান পরিচালনা করেন। সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৫ মিনিটের দিকে একটি বসতঘরে অভিযান চালিয়ে সামসুন নাহার (১৮) নামে এক নারীকে আটক করা হয়।
আটক সামসুন নাহার নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ ব্লকের বাসিন্দা। র্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি শামসুর আলমের মেয়ে। অভিযান চলাকালে তার বসতঘরে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশির একপর্যায়ে শয়নকক্ষের মাচার ওপর বিশেষ কায়দায় কালো পলিথিনে মোড়ানো একটি প্যাকেটের সন্ধান পান র্যাব সদস্যরা। পরে প্যাকেটটি খুলে ৩২৭ রাউন্ড রাইফেলের তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১৫-এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান দুটি পরিচালনা করা হয়। প্রথম অভিযানে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বিদেশি এসএমজি এবং দ্বিতীয় অভিযানে একটি বসতঘর থেকে ৩২৭ রাউন্ড রাইফেলের তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাবের এ কর্মকর্তা আরও জানান, উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদের উৎস এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে আটক নারীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে।
থানায় হস্তান্তর
র্যাব জানিয়েছে, উদ্ধার করা বিদেশি এসএমজি ও ৩২৭ রাউন্ড তাজা গুলিসহ আটক সামসুন নাহারকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদের সঙ্গে কোনো চক্র জড়িত কি না, সে বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করছে।
সীমান্তবর্তী টেকনাফে অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে র্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাহাড়ি এলাকা ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদের উপস্থিতি আইনশৃঙ্খলার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সিপিএসসি র্যাব-১৫, হতে ই-মেইল যোগে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই গণমাধ্যম কর্মীকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইতোমধ্যেই র্যাবের পক্ষ থেকে অপরাধীদের কঠোর হুশিয়ারী দিয়ে জানানো হয় যে, দেশের সার্বিক শান্তি শৃঙ্খলা বজায়ের লক্ষ্যে হত্যা, ধর্ষণ, অবৈধ অস্ত্র-মাদকদ্রব্য উদ্ধার থেকে শুরু করে সকল প্রকার অরাজকতাকে রুখে দিতে র্যাব বদ্ধপরিকর। এ ছাড়াও র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়নের জিরো টলারেন্স ঘোষণার পাশাপাশি সর্বপ্রকার অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান গুলো চলমান থাকবে