প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 12, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 31, 2026 ইং
ঘোড়াশালে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নূর মোহাম্মদ, পলাশ (নরসিংদী):
নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে প্রবাস ফেরত স্ত্রী সুমি আক্তারকে (২৩) গলাটিপে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী নূর আলম রূপা (৩০)-কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে নরসিংদী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ আলী আহসান এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নূর আলম রূপা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায় ২০১৭ সালে পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার উত্তর মিয়াপাড়ার আবদুর রহিমের ছেলে নূর আলম রূপার সঙ্গে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার ফজলু মিয়ার মেয়ে সুমি আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই রূপা যৌতুকের দাবিতে সুমির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে সুমির বাবা, যিনি পেশায় একজন রিকশাচালক, কয়েক দফায় রূপাকে দুই লাখ টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হলে তা দিতে না পারায় সুমির ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।
নির্যাতন থেকে বাঁচতে এবং পরিবারের সচ্ছলতার জন্য সুমি একপর্যায়ে বিদেশে পাড়ি জমান। সেখান থেকে তিনি নিয়মিত টাকা পাঠালেও রূপা সেই অর্থ সঞ্চয় না করে যথেচ্ছভাবে খরচ করেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সুমি দেশে ফেরার পর রূপা তার কাছে একটি মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার দাবি করেন। সুমি তার পাঠানো টাকার হিসাব চাইলে তাদের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৮ নভেম্বর রাত ১০টা থেকে পরদিন সকাল ১১টার মধ্যে কোনো এক সময় পরিকল্পিতভাবে সুমিকে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরদিন সকালে চার বছরের ছেলে ইলমীকে কৌশলে এক আত্মীয়ের বাসায় রেখে পালিয়ে যান রূপা। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা ভাড়া বাসায় সুমির মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।
এই ঘটনায় নিহতের বাবা ফজলু মিয়া বাদী হয়ে পলাশ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। পুলিশি তদন্ত ও অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।
© দৈনিক চেতনার কন্ঠ