প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 31, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 19, 2026 ইং
এক রাতেই ধ্বংসস্তূপ হলো সাবেক চেয়ারম্যানের বাড়ি, লুটপাটের পর আগুন

সাকিব হোসেন পটুয়াখালী প্রতিনিধি
এক রাতেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলো একটি পরিবারের মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়। যে একতলা বসতবাড়িতে একসময় পরিবারটির সুখ-দুঃখের স্মৃতি ছিল, শনিবার ভোরে সেখানে পড়েছিল শুধু ভাঙা ইট, টিন, পোড়া আসবাবপত্র আর ছাই।
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান লাভলুর একতলা বসতবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘরটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর মূল্যবান মালামাল, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
শনিবার (১৮ জুলাই) ভোর রাতে উপজেলার কাঁঠালতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাবেক চেয়ারম্যান কাজী মিজানুর রহমান লাভলু এলাকা ছেড়ে চলে যান।
তার স্ত্রী শিল্পী বেগম ও বৃদ্ধা মা ওই বাড়িতে বসবাস করলেও চিকিৎসার জন্য কয়েকদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করায় বাড়িটি ফাঁকা ছিল। সেই সুযোগে গভীর রাতে একদল ব্যক্তি বুলডোজার নিয়ে এসে বসতবাড়িটি গুঁড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রথমে বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এরপর বুলডোজার দিয়ে একতলা বাড়িটি ভেঙে ফেলে। ঘরে থাকা মূল্যবান আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যাওয়ার পর ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সকালে বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান, তাদের দীর্ঘদিনের বসতবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
সাবেক চেয়ারম্যান কাজী মিজানুর রহমান লাভলু অভিযোগ করেন, ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি ফোনে বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি পান। বিষয়টি কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়িতে জানিয়ে নিরাপত্তা চাইলেও শেষ পর্যন্ত হামলা ঠেকানো যায়নি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিন চৌধুরী বলেন, বসতঘরটি সরকারি জায়গার ওপর নির্মিত হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেল বলেন, সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙচুরের সত্যতা পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও কেউ বিস্তারিত তথ্য দিতে চাননি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
বার্তা প্রেরকঃ-
সাকিব হোসেন
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
তারিখ:- ১৯ জুলাই ২০২৬ইং
© দৈনিক চেতনার কন্ঠ