প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 29, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 14, 2026 ইং
ঈশ্বরগঞ্জে ফায়ার লাইসেন্সের নামে ২৩ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ, ভুল স্বীকার স্টেশন অফিসারের

জুনাঈদ আল হাবিব
স্টাফ রিপোর্টার্স
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন অফিসার রামপ্রসাদ পালের বিরুদ্ধে ফায়ার লাইসেন্স করে দেওয়ার কথা বলে এক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকের কাছ থেকে ২৩ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা নিজেই টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে এটিকে ‘ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের একটি ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক নিখিল চন্দ্র বিশ্বশর্মার প্রতিষ্ঠানের ফায়ার লাইসেন্স করে দেওয়ার কথা বলে প্রথমে ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন স্টেশন অফিসার রামপ্রসাদ পাল। পরে দর-কষাকষির একপর্যায়ে তিনি ২৩ হাজার টাকা নগদ গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী নিখিল চন্দ্র বিশ্বশর্মা বলেন, “আমার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ফায়ার লাইসেন্স করে দেওয়ার কথা বলে ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে আমি ২৩ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হই।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি বিধি অনুযায়ী ফায়ার লাইসেন্সের নির্ধারিত ফি সরকারি কোষাগারে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় জমা দিতে হয়। কোনো কর্মকর্তা সরাসরি নগদ অর্থ গ্রহণ করতে পারেন না। ফলে এভাবে নগদ অর্থ গ্রহণ সরকারি বিধিবিধানের পরিপন্থী।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক পূর্ণচন্দ্র মুৎসুদ্দী (পিএফএম) বলেন, “নগদ অর্থ নেওয়ার কোনো বিধান নেই। এটি একটি গুরুতর অনিয়ম। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্টেশন অফিসার রামপ্রসাদ পাল বলেন, “টাকা নেওয়াটা আমার ভুল হয়েছে।” তবে তিনি কেন সরকারি নিয়মের বাইরে নগদ অর্থ গ্রহণ করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সরকারি সেবা গ্রহণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
© দৈনিক চেতনার কন্ঠ