
নিজস্ব প্রতিবেদন:
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের পুরাতন ভবন ভেঙে ফেলার পর সেখানকার টিন, কাঠ, কংক্রিটের সিঁড়ি, গাছসহ লক্ষাধিক টাকার মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম ওয়াদুদের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজের উত্তর পাশে অবস্থিত প্রায় ১৩০ হাত দৈর্ঘ্যের একটি পুরাতন টিনশেড ভবন ভেঙে সেখানে নতুন ভবন নির্মাণকাজ চলছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ভবনটি ভাঙার পর প্রায় ৬৫–৭০টি টিন, ৬৫–৭০টি বেঞ্চের কাঠ, ৩৫–৪০টি কংক্রিটের সিঁড়ি, পুরাতন ফ্যান, মোটর, টিউবওয়েলসহ বিভিন্ন মালামাল কলেজের গুদামে সংরক্ষণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, গুদামঘরের চাবি অধ্যক্ষের কাছে থাকায় তিনি বিভিন্ন সময়ে ভ্যান ও ট্রলিযোগে এসব মালামাল নিজ বাড়িতে নিয়ে যান।
স্থানীয়দের দাবি, অধ্যক্ষ গোলাম ওয়াদুদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এবং কলেজের বিভিন্ন সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম নিয়ে অতীতেও একাধিকবার বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি তার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় ভ্যানচালক শাহাবুল মিয়া জানান, প্রায় ৮ থেকে ১০ দিন আগে (২৯/৩০ জুন) অধ্যক্ষ তাকে কলেজে ডেকে পাঠান। পরে তিনি কলেজ থেকে কিছু পুরাতন কাঠ, টিন ও বাঁশ ভ্যানে করে নাওডাঙ্গা ইউনিয়নে অবস্থিত অধ্যক্ষের বাড়িতে পৌঁছে দেন। এ কাজের জন্য তিনি ৭০০ টাকা ভাড়া পেয়েছেন বলে দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু হান্নান বলেন, কলেজের পুরাতন ভবনের টিন, কাঠসহ বিভিন্ন মালামাল ভ্যান ও ট্রলিযোগে অধ্যক্ষের বাড়িতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কলেজ মাঠের একটি কাঁঠাল গাছ কেটে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গাছটির মূল অংশ বর্তমানে কোথায় রয়েছে, তা তাদের জানা নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, কলেজের ফ্যান, লাইট, মোটরসহ বিভিন্ন সামগ্রীও বিভিন্ন সময়ে কলেজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, এসব কাজ কখনো রাতে, আবার কখনো কলেজ বন্ধের দিন সম্পন্ন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কলেজের উপাধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, কলেজ মাঠের কাঁঠাল গাছটি কেটে কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে তার জানা নেই। পুরাতন ভবনের টিন, কাঠ ও কংক্রিটের সিঁড়ি অধ্যক্ষের বাড়িতে নেওয়া হয়েছে বলে শুনেছেন, তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য তার কাছে নেই।
অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ গোলাম ওয়াদুদ বলেন, কলেজের একটি ঝুঁকিপূর্ণ কাঁঠাল গাছ কাটা হয়েছে। গাছের ডালপালা তিনি বাড়িতে নিয়েছেন এবং মূল গাছটি ফুলবাড়ীর হাসু মিয়ার স-মিলে সংরক্ষণ করা হয়েছে। পরে কলেজের প্রয়োজন অনুযায়ী তা ব্যবহার করা হবে। তবে কলেজের পুরাতন টিন, কাঠ কিংবা অন্য কোনো মালামাল তিনি নিজের বাড়িতে নেননি বলে দাবি করেন।
কাঁঠাল গাছ কাটার প্রায় ছয় মাস পরও তা ব্যবহার না করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গাছটি স-মিলে সংরক্ষিত রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তীতে ব্যবহার করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার আ. সালাম বলেন, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। তবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিষয়টি নিয়মবহির্ভূত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, কলেজের সম্পদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।