ঢাকা | বঙ্গাব্দ

শ্রমিকের মজুরি নিয়ে দ্বন্দ্ব, সালিসি বৈঠকে যুবককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে যখম

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 27, 2026 ইং
শ্রমিকের মজুরি নিয়ে দ্বন্দ্ব, সালিসি বৈঠকে যুবককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে যখম ছবির ক্যাপশন: দৈনিক চেতনার কন্ঠ
ad728
এস এম পারভেজ তালুকদার, নাটোর জেলা গুরুদাসপুর উপজেলা প্রতিনিধি, 


গ্রামের সালিসি বৈঠকের ভেতরেই জহুরুল ইসলাম (২৫) নামের এক যুবককে প্রকাশ্যে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে যখমের অভিযোগ পাওয়া গেছ। শ্রমিকের মজুরি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই নারীসহ আরো ছয়জন আহত হয়েছেন।

শনিবার রাত ৮ টার দিকে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বেড়গঙ্গারামপুর গ্রামে ওই ঘটনা ঘটেছে। আহত জহুরুল ইসলাম ওই গ্রামের জলিল শেখের ছেলে।  তিনি পেশায় কৃষক। তাদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে মামুদপুর গ্রামের সাইফুল কষাইের ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাইফুল কষাইসহ ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৭ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন জহুরুলের ভাই রুবেল শেখ।



প্রত্যক্ষদর্শী আবদুল কুদ্দুস প্রামাণিক বলেন, শুক্রবার রাতে ঘটা তুচ্ছ একটা ঘটনা মিমাংসা করতে শনিবার রাতে সালিস ডাকেন গ্রামের প্রধানরা। স্থানীয় শমসের দোকানে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে গ্রামের প্রায় ২শ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তার সামনেই বসে ছিলেন জহুরুল। বৈঠক চলাকালে হঠাৎ করে সাইফুল কষাইের নেতৃত্বে জিহাদ, আশিক, নাজমুল, সেলিমসহ অন্তত ১০ থেকে ১২ জন লোক নিয়ে জহুরুলের ওপর হামলা   চালানো হয়। এ সময় জহুরুলকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে যখম করা হয়। তাকে ধরতে গিয়ে  আহত হন জহুরুলের স্ত্রী, ভাবি, পিতা জলিল শেখ, চাচাতো ভাই রুবেল ও প্রতিবেশী মাজেম আলী। তাৎক্ষণিক আহতদের উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

হাসপাতালের জরুরী বিভাগের জন্য চিকিৎসক বলেন, আহত জহুরুলের মাথায় ৮টি শেলাই দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘত রয়েছে।

বিএনপি নেতা গ্রাম প্রধান আবু রায়হান বলেন, গ্রামের লোকজন নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সালিস করছিলেন তিনি। কিন্তু শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে সাইফুল লোকজন নিয়ে হাতুড়ি দিয়ে জহুরুলের ওপর হামলা করেন। হাতুড়ির আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন জহুরুল। হামলা ঠেকাতে গিয়ে তিনিসহ আরো কয়েকজন আহত হন। ঘটনাটির বিচার চান তিনি।

আহত জহুরুলের পিতা জলিল শেখ বলেন, সাইফুল কষাইয়ের কাছ থেকে কাজের মজুরী ৮০০ টাকা পান বিডিআর নামের এক ব্যাক্তি। দরিদ্র শ্রমিকের মজুরির ওই টাকা নিয়ে তার সঙ্গে সাইফুলের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সাইফুলকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন তার ছেলে জহুরুল। ওই ঘটনানাটি মিমাংসা করতেই শনিবার গ্রাম্য সালিস ডাকা হয়। অথচ আপোষ করতে এসে সাইফুল কষাইরা অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে তার ছেলেসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের আহত করেছেন। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান তিনি।

চা দোকানি শমেস বলেন, তার দোকানেই সালিস হচ্ছিল। দোকানের আয়েই তার সংসার চলে। অথচ সাইফুল কষাই হামলা করায় তার দোকানের টেলিভিশন ভেঙে গেছে। নষ্ট হয়েছে দোকানের অন্যান্য বিক্রয় সামগ্রী। তিনি অভিযুক্তদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

অভিযুক্ত সাইফুল কষাই ও তার লোকজন পলাতক থাকায় এ ঘটনায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল হান্নান বলেন, এ ঘটনায় তিনি আহত জহুরুলের পক্ষে লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে।



নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চেতনার কন্ঠ

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সাঁতার প্রতিযোগিতার সেরা নাফিসা সিনেমায় নায়িকাও, নায়কের তালি

সাঁতার প্রতিযোগিতার সেরা নাফিসা সিনেমায় নায়িকাও, নায়কের তালি